বেশ কিছু আলোচিত সিনেমা উপহার দিয়ে খ্যাতি কুড়ান বলিউড অভিনেত্রী সানা খান। ২০২০ সালে করোনা সংকটে পড়ে গোটা পৃথিবী। সেই সময়ে আকস্মিকভাবে অভিনয় ও শোবিজ অঙ্গন ছেড়ে ধর্মে মনোযোগী হওয়ার ঘোষণা দেন এই অভিনেত্রী। একই বছরের শেষের দিকে মুফতি আনাস সৈয়দকে বিয়ে করে চমকে দেন সানা খান।
সানা খান যখন বিয়ে করেন, তখন তার বয়স ৩৩ বছর। ক্যারিয়ারেও ভালো সময় পার করছিলেন। ঠিক সেই সময়ে অভিনয় ছেড়ে একজন মুফতিকে বিয়ে করে ধর্মে মনোযোগী হওয়ার ব্যাপারটিকে অনেকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেননি। অনেকে দাবি করেন—সানার ‘ব্রেনওয়াশ’ করেছেন মুফতি আনাস। তবে এ নিয়ে কখনো কথা বলতে দেখা যায়নি এই অভিনেত্রীকে। কয়েক দিন আগে অভিনেত্রী রেশমি দেশাইকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সানা খান। এ আলাপচারিতায় বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
স্বামীর সঙ্গে সানা খানের আনন্দঘন মুহূর্ত
মুফতির সঙ্গে বিয়ের খবর সানার মা-বাবা ছাড়া কেউ জানতেন না। গোপন বিয়ের বিষয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমাদের বিয়ে যখন চূড়ান্ত হয়, তখন তা ছিল টপ সিক্রেট। মা-বাবা ছাড়া কেউ কিছুই জানতেন না। এমনকি, আমার বরের নামও কেউ জানতেন না। আমি যখন মেহেদি লাগাচ্ছিলাম, তখন মেহেদি আর্টিস্ট আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন—বরের নাম কী? আমি তাকে বলেছিলাম, ‘ফাঁকা রাখো, পরবর্তীতে লিখে নিব।”
সানা খানের পরিবার অনেক বড়। কিন্তু তার বিয়ের খবর পরিবারের অন্য সদস্যরাও জানতেন না। সানার কাজিনরা প্রথমবার তার স্বামীকে দেখে অবাক হয়েছিলেন। তার ভাষায়—“আমার কাজিনরা তাকে মসজিদে প্রথম দেখেছিল। আমার এক বোন আমাকে ফোন করে বলেছিল—‘এ তো মাওলানা আনাস!”
সেই সময়ে সানা খানের জীবনে গভীর পরিবর্তন ঘটে। তা জানিয়ে প্রাক্তন এই অভিনেত্রী বলেন, “পরিস্থিতি এমন ছিল যে, আমার জীবনে বড় পরিবর্তন হচ্ছিল। আমি আক্ষরিক অর্থেই একেবারে অন্য মানুষে পরিণত হচ্ছিলাম। এটা আমার স্বামীর জন্য নয়, আমি নিজেই এটা চেয়েছিলাম। তিনি শুধু আমাকে পথ দেখিয়েছিলেন।”
সানা খান
মুফতিকে বিয়ের পর নেটিজেনদের অনেকে দাবি করেন, তার স্বামী তাকে ‘ব্রেনওয়াশ’ করেছেন। এ নিয়ে অনেক চর্চা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দেন সানা। তার ভাষ্য—“কেউ কাউকে ব্রেনওয়াশ করতে পারে না। বিষয়টা তেমন নয়। আমি শান্তি চেয়েছিলাম। একজন মানুষ টাকা, নাম, খ্যাতি আর সম্মান পেতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে অন্তরের শান্তি খোঁজে।”
খানিকটা ব্যাখ্যা করে সানা খান বলেন, “কথিত আছে, আপনার চারপাশের পরিবেশ ঠিক না থাকলে, আপনার সিদ্ধান্তও সঠিক হবে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি কিছু বিষয় শিখেছি, আর এ কারণে তার সঙ্গে আমার এই সম্পর্ককে এতটা মূল্য দিই। আমি প্রায়ই আমার স্বামীকে বলি, ‘তার চেয়ে ভালো মানুষ আমি কখনো খুঁজে পেতাম না’। সিদ্ধান্তটা কঠিন ছিল, কিন্তু আমি নিয়েছিলাম।”
সানা খান
বিয়ের বেশিরভাগ খরচ বহন করেন সানার স্বামী মুফতি আনাস। এ বিষয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “মেহেদির খরচ আমি দিয়েছিলাম, এর বাইরে নিকাহ, আমার পরিবারের থাকা-খাওয়া, রিসেপশন—সব কিছুর দায়িত্ব আমার স্বামী নিয়েছিলেন।”
এর আগে কোরিওগ্রাফার মেলভিন লুইসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন সানা। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার সঙ্গে ব্রেকআপের খবর দেন। এরপর ফটো শেয়ারিং সাইট ইনস্টাগ্রামে লম্বা একটি বিবৃতিতে এই অভিনেত্রী জানান, ইন্ডাস্ট্রি থেকে তিনি অনেক খ্যাতি, সম্মান ও অর্থ উপার্জন করেছেন। কিন্তু এটিই তার জীবনের লক্ষ্য নয়। তিনি এখন সৃষ্টিকর্তার নির্দেশ মেনে চলবেন ও মানুষের সেবা করবেন।
সানা খান
২০০৫ সালে ‘ইয়ে হি হাই সোসাইটি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে সানা খানের। পরের বছরই ‘ই’ সিনেমার মাধ্যমে তামিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন। যদিও সিনেমাটির একটি গানে দেখা যায় তাকে। পরবর্তীতে বলিউডের ‘হাল্লা বোল’, ‘জয় হো’, ‘ওয়াজাহ তুম হো’, ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’সহ বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করেন সানা খান। তাছাড়া ‘বিগ বস’ এর পাশাপাশি ‘খতড়ো কে খিলাড়ি’ রিয়েলিটি শোয়ে অংশ নেন এই অভিনেত্রী।
*দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে