সারা বাংলা

কুড়িগ্রামে সেতুর পাটাতন ভেঙে যান চলাচল বন্ধ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অতিরিক্ত ওজনের ট্রাকের ভারে শতবর্ষী সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। 

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত সেতুর স্টিলের পাটাতন ভেঙে যায়। ফলে চলাচলের ক্ষেত্রে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকাবাসী জানান, ঘটনার পরপরই সেতুর দুই পাশে আটকা পড়ে অসংখ্য যানবাহন। নদীর ওপারে যেতে মানুষ ভরসা করছেন ছোট নৌকায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তারা পার হচ্ছে দুধকুমার।

রাহিজুল ইসলাম নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, “প্রতিদিনের মতো অফিসে যেতে সময়মতো বের হয়েছিলাম। এসে দেখি, সেতু ভেঙে গেছে। অফিসে যেতে হবে—উপায় না পেয়ে নৌকায় নদী পার হলাম।”

গরু ব্যবসায়ী আমজাদ, কাশেম ও রাসেল জানান, সকালে গরু নিয়ে হাটে পৌঁছালে ভালো দাম পাওয়া যায়। আটটি গরু নিয়ে ভটভটিতে এসেছিলাম।  সেতু বন্ধ থাকায় নৌকার জন্য অপেক্ষা করেছি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি বহুদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ। মাঝেমধ্যেই পাটাতন দেবে যায়, ভাঙে—তারপরও জীবিকার তাগিদে মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নেয়। স্থলবন্দরের ব্যবসা, তিন ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ—সবকিছুই এই একটি সেতুর ওপর নির্ভরশীল।

ইতিহাসের সাক্ষী এই সেতু নির্মিত হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে ১৮৮৭ সালে। লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেললাইনের অংশ হিসেবে দুধকুমার নদের ওপর তৈরি করা হয় ১২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতু। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রগতি ঠেকাতে এর একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। স্বাধীনতার বহু বছর পর এরশাদ সরকারের আমলে সড়ক সেতু হিসেবে মেরামত করা হয়। সেই সংস্কার আর সময়ের ভার সইতে পারছে না।

কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, সেতুটির ধারণ ক্ষমতা ১০ টন। ট্রাকটি বহন করছিল ৩৯ টন। অতিরিক্ত লোডের কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ট্রাক মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। সেতুটির ভাঙা পাটাতন থেকে গাড়ি সরানো ও মেরামতের কাজও চলছে।

ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, “ওভারলোডের কারণে মামলা না হলেও জরিমানার বিধান রয়েছে।”