সারা বাংলা

যশোরে এবার কুপিয়ে ও পিটিয়ে দুজনকে হত্যা

যশোরে গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকটি  হত্যাকাণ্ডের পর এবার দুজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হলো। এ নিয়ে জানুয়ারির প্রথম ২০ দিনের মধ্যে চারজন হত্যার শিকার হলেন।

জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এই ঘটনায় স্থানীয়রা হামলাকারীদের মধ্যে পলাশ নামে একজনকে ধরে ফেলে। সেখানে সে গণপিটুনির শিকার হয়।

চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে রফিকুল মারা যান। আর যশোর সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে পলাশকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে যশোরের চৌগাছা উপজেলার শলুয়া কলেজের সামনে হামলা ও গণপিটুনিতে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ ময়না তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রফিকুল যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের বাসিন্দা। গণপিটুনিতে নিহত পলাশ একই গ্রামের মেলো মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, রফিকুলের ওপর কয়েকজন অতর্কিত হামলা করে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। রফিকুলের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। উপস্থিত জনতা পলাশকে ধরে ফেলে এবং গণপিটুনি দেয়।

এই ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ পলাশকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুরুতর আহত রফিকুলকে (৫০) ঢাকা নেওয়ার পথে মারা যান বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

দুইজন নিহত হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

চলতি জানুয়ারি মাসের ৩ তারিখে যশোর শহরে চলন্ত মোটরসাইকেলে বিএনপির নেতা আলমগীর হোসেনকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দুই দিন বাদে ৫ জানুয়ারি যশোরের মনিরামপুরে বরফকল ব্যবসায়ী ও সংবাদিক রানা প্রতাপকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।