আবেগের কোনো জায়গা ছিল না সান্তিয়াগো বার্নাবেউয়ে। পুরোনো ক্লাব মোনাকোর বিপক্ষে নামলেও কিলিয়ান এমবাপ্পে ছিলেন সম্পূর্ণ পেশাদার, সম্পূর্ণ নিষ্ঠুর। জোড়া গোল করে ম্যাচের প্রথম ভাগেই সব হিসাব চুকিয়ে দেন ফরাসি তারকা। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে মোনাকোকে ৬–১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
মোনাকোতে কাটানো পাঁচ বছরের স্মৃতি, পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে ক্লাবটির অবদান; ম্যাচের আগের দিন এসব কথাই বলেছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু মাঠে নেমে আবেগকে দূরে সরিয়ে রেখে পুরোনো ক্লাবকেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা দেন তিনি। ম্যাচের প্রথম ২৬ মিনিটেই দুইবার জাল কাঁপিয়ে রিয়ালের টপ-এইটে থাকার সম্ভাবনাকে অনেকটা শক্ত করে দেন এমবাপ্পে।
নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার অধীনে প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচটাই রিয়ালের জন্য হয়ে ওঠে একপ্রকার ওয়াকওভার। এমবাপ্পের পাশাপাশি ফ্রাঙ্কো মাসতান্তুয়োনো, থিলো কেরারের আত্মঘাতী গোল, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহ্যাম গোল করে স্কোরলাইনকে বিশাল রূপ দেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় রিয়াল। মাত্র পাঁচ মিনিটেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। মাসতান্তুয়োনোর পাস থেকে ফেদে ভালভার্দে বল বাড়ান এমবাপ্পের দিকে। বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত ফিনিশে গোলরক্ষক ফিলিপ কোহনের নাগালের বাইরে বল জড়িয়ে দেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
এর কিছুক্ষণ পর ভিনিসিয়ুস অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। অন্যদিকে বার্সেলোনা থেকে ধারে খেলতে আসা আনসু ফাতির সামনে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ এসেছিল। কিন্তু আট গজ থেকে নেওয়া তার স্ট্রেচিং শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।
এরপর আসে এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোল, চোখ জুড়ানো এক দলগত আক্রমণের পর। কামাভিঙ্গার ফ্লিক, আরদা গুলারের পাস, ভিনিসিয়ুসের আউটসাইড-ফুটে দেওয়া নিখুঁত বল; সব মিলিয়ে সহজ ট্যাপ-ইনে নিজের চলতি মৌসুমের ৩২তম গোল করেন এমবাপ্পে। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি ছিল মাত্র ছয় ম্যাচে তার ১১তম গোল।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়লেও পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি মোনাকো। জর্ডান তেজে ২৫ গজ থেকে নেওয়া শটে ক্রসবার কাঁপান। ম্যাগনেস আকলিউশ ও ফোলারিন বালোগুনের শট ঠেকিয়ে রিয়ালকে রক্ষা করেন থিবো কোর্তোয়া।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে বেলিংহ্যামের হেডার অল্পের জন্য বাইরে যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই আবার আঘাত হানে রিয়াল। ভিনিসিয়ুসের বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে অ্যাঙ্গেল থেকে বল জালে পাঠিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের প্রথম গোলটি করেন আর্জেন্টাইন উইঙ্গার মাসতান্তুয়োনো।
এরপর থিলো কেরারের দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। কাউন্টার আক্রমণ থেকে ১২ গজ দূরত্ব থেকে অসাধারণ শটে নিজের নামের পাশে গোল যোগ করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
৭২ মিনিটে রিয়ালের রক্ষণে ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সান্ত্বনার গোলটি করেন জর্ডান তেজে। তবে ম্যাচের শেষ কথা বলেন জুড বেলিংহ্যাম। ৮০ মিনিটে গোলরক্ষক কোহনকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে তুলে রিয়ালকে ৬–১ ব্যবধানের বিশাল জয় উপহার দেন ইংলিশ মিডফিল্ডার।
এই জয়ে গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে রিয়াল মাদ্রিদ। কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে আরবেলোয়ার প্রথম ম্যাচ স্মরণীয় হয়ে রইল দাপুটে এক জয়ে।