যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচেষ্টা ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ থেকে বিশ্বের মনোযোগ সরিয়ে দিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। খবর আরব নিউজের।
গত সপ্তাহে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের মার্কিন পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেন ট্রাম্প। তার এই পদক্ষেপ ব্রাসেলসকে (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) ক্ষুব্ধ করেছে এবং ন্যাটো সামরিক জোটকে এক নজিরবিহীন চাপের মুখে ফেলেছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা চতুর্থ বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে। দেশটি বর্তমানে তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মোকাবিলা করছে। এই অবস্থায় ইউক্রেনের জন্য যখন আন্তর্জাতিক সংহতি ও সামরিক সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুটি চলে আসা ইউক্রেনের জন্য একটি বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেন পশ্চিমা সামরিক সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। জেলেনস্কি আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্প যদি ইউরোপের দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, তাহলে একটি বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হতে পারে। এতে পশ্চিমারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে এবং ইউক্রেনকে অর্থ দেওয়া কমিয়ে দিতে পারে।
এছাড়া রাশিয়াকে ঠেকানোর জন্য ন্যাটোর ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলোর দূরত্ব বাড়লে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেই সুযোগ নিতে পারেন বলেও উদ্বিগ্ন জেলেনস্কি। তার মতে, এখন বিশ্ববাসীর মনোযোগ ইউক্রেন থেকে সরে যাওয়া মানে হলো রাশিয়ার জন্য জয়ের রাস্তা সহজ করে দেওয়া।
সাংবাদিকদের জেলেনস্কি বলেন, “একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চলাকালীন যেকোনো ধরনের মনোযোগ বিচ্যুতি নিয়ে আমি চিন্তিত।”
তিনি আরো যোগ করেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এবং ইউক্রেন যুদ্ধকে কখনওই ‘বিনিময়যোগ্য’ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাদের এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চলছে, আমাদের এখানে একজন নির্দিষ্ট আক্রমণকারী (রাশিয়া) আছে ও নির্দিষ্ট ভুক্তভোগী আছে।”
তিনি ওয়াশিংটনকে ইউরোপের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। জেলেনস্কি বলেন, “আমি মন থেকে চাই যুক্তরাষ্ট্র যেন ইউরোপের কথা শোনে, কূটনীতির মাধ্যমে প্রকৃত অর্থেই তাদের কথা শোনে। আমি মনে করি সেটাই ঘটবে এবং আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে বড় কোনো হুমকি তৈরি হবে না।”