খেলাধুলা

ইন্টারকে উড়িয়ে শেষ ষোলোতে আর্সেনাল

চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের দুর্দান্ত যাত্রা যেন থামছেই না। মঙ্গলবার সান সিরোর ঐতিহাসিক মঞ্চে শক্তিশালী ইন্টার মিলানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে অনায়াসেই শেষ ষোলোর টিকিট কেটে নিয়েছে মিকেল আর্তেতার দল। ম্যাচের নায়ক গ্যাব্রিয়েল জেসুস। যিনি প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করে কার্যত ম্যাচের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল আর্সেনাল। ১০ মিনিটেই এগিয়ে যায় সফরকারীরা। এবেরেচি এজের পাসে শুরু হওয়া আক্রমণে মিকেল মেরিনো ও মাইলস লুইস-স্কেলির দ্রুত বল চালাচালির পর জুরিয়েন টিম্বারের শট গোলমুখে গড়িয়ে এলে বাড়ানো পায়ে জাল কাঁপান জেসুস। তবে ঘরের মাঠে বসে ইন্টারও চুপ করে থাকেনি। মাত্র আট মিনিট পরই পেতার সুসিচ বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত সাইড-ফুট শটে সমতা ফেরান। ডেভিড রায়ার ঝাঁপিয়েও কিছু করার ছিল না।

কিন্তু ওইটুকুই। ৩১ মিনিটে কর্নার থেকে আবারও আঘাত হানে আর্সেনাল। বুকায়ো সাকার বাঁকানো কর্নারে লিয়ান্দ্রো ত্রসারের হেড ফিরে এলে ইন্টার ক্রসবারের নিচে থেকে দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন জেসুস। চলতি মৌসুমে সেট-পিস থেকে আর্সেনালের ১৯তম গোল। সংখ্যাটা নিজেই বলে দেয় তাদের পরিকল্পিত শক্তির কথা।

বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ইংলিশ ক্লাবটির হাতেই। আর্সেনালের আক্রমণ একের পর এক ঢেউয়ের মতো আসতে থাকে। এজে, সাকা, ত্রসার- সবার পায়ের ছোঁয়ায় বিপদে পড়ে ইন্টার রক্ষণ। শেষ পর্যন্ত ৮৪ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ভিক্টর গিয়োকেরেস বক্সের কিনারা থেকে নিখুঁত শটে ম্যাচে শেষ পেরেক ঠুকে দেন।

এই জয়ে ইউরোপে টানা সাত ম্যাচে সাত জয় নিয়ে আর্সেনাল এখন টুর্নামেন্টের একমাত্র শতভাগ জয়ের দল। এর আগে বায়ার্ন মিউনিখ ও আতলেতিকো মাদ্রিদের মতো জায়ান্টদের হারিয়েছে তারা। এবার তাদের শিকার গেল গতবারের রানার্সআপ ইন্টার। ফলে গ্রুপের শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিশ্চিত হয়েছে এবং নকআউট পর্বে দ্বিতীয় লেগ খেলবে নিজেদের মাঠেই।

ম্যাচ শেষে গর্ব লুকাননি কোচ মিকেল আর্তেতা। তার কথায়, “এই জয় শুধু আজকের জন্য নয়, পুরো টুর্নামেন্টে আমাদের পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি। এমন কঠিন জায়গায় এসে এমন দলের বিপক্ষে যেভাবে আমরা নিজেদের প্রমাণ করেছি, সেটাই দলের পরিণত মানসিকতার প্রমাণ।”

অন্যদিকে ইন্টার কোচ ক্রিস্টিয়ান চিভু পরাজয় মেনে নিয়ে বলেন, “আর্সেনাল সুযোগগুলো কাজে লাগিয়েছে। তারা আজ আমাদের চেয়ে শক্তিশালী ছিল।” এই হারে শেষ ষোলোতে যেতে ইন্টারকে হয়তো প্লে-অফের কঠিন পথেই হাঁটতে হবে।