দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত জয়ী হলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ সুপারস্টারের বিপক্ষে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছে ইতালির তুরিন শ্রম আদালত। ফলে জুভেন্টাসকে রোনালদোকে দেওয়া বকেয়া বেতনের অর্থ ফেরত নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকল না।
ইতালিয়ান গণমাধ্যম ও ইএসপিএন নিশ্চিত করেছে, সোমবার জুভেন্টাসের আপিল আবেদন নাকচ করে দেয় আদালত। এর ফলে রোনালদোকে আর ফেরত দিতে হবে না আগেই পাওয়া ৯.৭৫ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ ডলার)। বরং ওই অর্থের ওপর সুদসহ পুরো টাকাই তার প্রাপ্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছে আদালত। শুধু তাই নয়, মামলার সব আইনি খরচও বহন করতে হবে জুভেন্টাসকে। যার পরিমাণ প্রায় ৮০ হাজার ইউরো।
মূলত কোভিড-১৯ মহামারির সময় বেতন কাটছাঁট নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত। সে সময় ক্লাবের স্বার্থে সাময়িকভাবে বেতনের একটি অংশ না নেওয়ার বিষয়ে জুভেন্টাসের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন রোনালদো। পরে সেই অর্থ পরিশোধ না করায় আইনের দ্বারস্থ হন তিনি। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে সালিশি ট্রাইব্যুনাল রায় দেয় রোনালদোর দাবি করা ১৯.৫ মিলিয়ন ইউরোর অর্ধেক জুভেন্টাসকে পরিশোধ করতে হবে। সর্বশেষ রায়ে সেই সিদ্ধান্তই বহাল থাকল।
এই রায় জুভেন্টাসের আর্থিক অবস্থার ওপর বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলেই জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। কারণ, বিতর্কিত অর্থ ইতোমধ্যেই ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করে রোনালদোকে পরিশোধ করা হয়েছিল। তবে এখনো উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে জুভেন্টাসের। ক্লাব জানায়, আইনি দল রায়ের কপি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে।
রোনালদোর আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আদালত ক্লাবের উত্থাপিত সব আপত্তি খারিজ করেছে এবং নাগরিক আইনের মৌলিক নীতির সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করেছে। মহামারির সময় রোনালদো সাময়িকভাবে বেতনের একটি অংশ ছাড় দিতে সম্মত হয়েছিলেন। কিন্তু জুভেন্টাস সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি, যা তার আস্থার স্পষ্ট লঙ্ঘন।”
বর্তমানে সৌদি ক্লাব আল নাসরের অধিনায়ক রোনালদো ২০১৮ সালে জুভেন্টাসে যোগ দিয়ে টানা দুইবার সেরি’আ শিরোপা জেতেন। পাশাপাশি জেতেন একটি ইতালিয়ান কাপ ও দুটি সুপার কাপ। ২০২১ সালে তিনি ফেরেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে।