জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে হত্যাকারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। বুধবার এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
২০২২ সালে নারা শহরে একটি সমাবেশে গুলি করে হত্যা করা হয় শিনজো আবেকে। এর সাড়ে তিন বছর পর হত্যাকারীকে দণ্ড দিলো আদালত।
গত বছর বিচারের শুরুতে তেতসুয়া ইয়ামাগামি খুনের অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু তাকে কীভাবে শাস্তি দেওয়া উচিত তা নিয়ে জাপানে জনমত বিভক্ত হয়ে পড়েছে। অনেকে ৪৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে একজন ঠান্ডা মাথায় খুনি হিসেবে দেখেন, কেউ কেউ তার সমস্যাগ্রস্ত লালন-পালনের প্রতি সহানুভূতিশীল।
সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, ইয়ামাগামি তার ‘গুরুতর কাজের’ জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের যোগ্য।
তবে দণ্ডের ক্ষেত্রে নমনীয়তা কামনা করে ইয়ামাগামির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি ‘ধর্মীয় নির্যাতনের’ শিকার ছিলেন।
আদালতে শোনা গেছে, ইউনিফিকেশন চার্চের প্রতি তার মায়ের নিষ্ঠা পরিবারকে দেউলিয়া করে দিয়েছিল। বিতর্কিত গির্জার সাথে শিনজো আবের সম্পর্ক বুঝতে পেরে ইয়ামাগামির তার প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।
বুধবার নারা জেলা আদালতের বিচারক শিনিচি তানাকা প্যারোল ছাড়াই ইয়ামাগামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।
বিচারক বলেছেন, “সুযোগের জন্য অপেক্ষা করা, সুযোগ খুঁজে বের করা এবং বন্দুক দিয়ে ভুক্তভোগীকে লক্ষ্য করে লক্ষ্যবস্তু করা ঘৃণ্য এবং অত্যন্ত বিদ্বেষপূর্ণ।”
রায় ঘোষণার সময় ইয়ামাগামি হাত জোড় করে এবং চোখ অবনত করে চুপচাপ বসে ছিলেন।