শেষ ওভার আসার আগে সিলেটের জন্য সমীকরণ এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল যেখানে, তাদের পক্ষে বাজি ধরার লোক থাকার কথা না! তবুও গত ম্যাচের নায়ক ক্রিস ওকস থাকায় কিছুটা আশা ছিল। ৬ বলে ২৪ রানের সমীকরণ মেলাতে হবে ওকসকে। ৪ ছক্কার খেলা!
আগের ম্যাচে তিনি ১ বলে ৬ রান তুলেছিলেন রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে। সেই আত্মবিশ্বাসে ঊনিশতম ওভারের শেষ বলে সিঙ্গেল রিফিউজ করে দেন ইংলিশ ক্রিকেটার। কিন্তু বিনুরার তাকে আজ নায়ক হতে দেননি। বাঁহাতি পেসারের প্রথম বল ডটের পর দ্বিতীয় বল লং অফ দিয়ে ছক্কা উড়ান ওকস। সিলেটের আশা কিছুটা জেগে উঠে। পরের বল আবার ডট। চতুর্থ বলেই ম্যাচের এপিটাফ লিখা হয়ে যায়। ওকস বিনুরার ওয়াইড ইয়র্কার বল কাভারে পাঠিয়ে ১ রানের বেশি নিতে পারেননি। পরের ২ বল খেলে নাসুম একটি চার হাঁকালে ১২ রানের আক্ষেপে পুড়ে সিলেট।
দ্বিতীয় কোয়ালিফার ম্যাচ ১২ রানে জিতে বিপিএলের দ্বাদশ আসরের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। আগামী শুক্রবার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম রয়্যালস। মিরপুরে ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা ৬টায়।
ম্যাচে আগে ব্যাটিং করতে নেমে রাজশাহী ৯ উইকেটে ১৬৫ রান তুলে। সিলেট ৮ উইকেটে ১৫৩ রানের বেশি করতে পারেননি। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ বিনুরা ফার্নান্দো।
বোলিংয়ে রাজশাহী দারুণ করলেও ব্যাটিংয়ে তাদের হয়ে নজর কেড়েছেন প্রথমবার বিপিএল খেলতে আসা কেন উইলিয়ামসন। বুধবার সকালেই ঢাকায় নেমেছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় এসএ টি-টোয়েন্টি থেকে বাদ পড়ায় বিপিএলে খেলার সুযোগ হয়। সকালে ঢাকা এসে সন্ধ্যায় মিরপুরে নেমে ৪৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। জিমি নিশামের সঙ্গে ৭৭ রানের জুটি গড়ে রাজশাহীর জয়ের অন্যতম নায়ক তিনি।
সিলেটের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল রাজশাহী। উদ্বোধনী জুটিতে শাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান ৪১ রান করেন ৪.৪ ওভারে। পেসার সালমান এরশাদ এই জুটি ভাঙেন। ৪ চার ও ১ ছক্কায় ২১ বলে ২৬ রান করেন শাহিবজাদা ফেরেন সাজঘরে। অফফর্মে থাকা তানজিদ আজ কিছুটা আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছিলেন। কিন্তু অল্পতে থেমে যান তিনিও। ১৫ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৩২ রান করেন। নাসুমের বল উড়াতে গিয়ে স্যাম বিলিংসের হাতে ক্যাচ দিয়ে থামে তার ইনিংস। এরপর হুট করেই মিডল অর্ডারে ফাটল ধরে। শান্ত (৭), মুশফিকুর (১ বলে ০) ও মেহরব (০) দ্রুত আউট হন। ৮০ রান তুলতেই ৫ উইকেট নেই রাজশাহীর। সেখানে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান দুই কিউই ক্রিকেটার উইলিয়ামসন ও নিশাম। উইলিয়ামসন মাঠে নেমে হতাশ করেননি। দলকে খাদের কিনারা থেকে তুলে এনে ৩৮ বলে ৪৫ রান করেন ১ চার ও ২ ছক্কায়। তার সঙ্গী জিমি নিশাম ২৬ বলে ৪৪ রান করেছেন ৪ চার ও ২ ছক্কায়। দুজন ৫০ বলে ৭৭ রানের জুটি গড়েন। নিশাম আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও উইলিয়ামসন নিজের স্বভাবসুলভ খেলা খেলে শেষ পর্যন্ত দলকে লড়াইয়ে রাখেন। ক্রিস ওকসকে মাথার উপর দিয়ে মারা ছক্কা কিংবা খালেদকে ইনসাইড আউট শটে কাভারের উপর দিয়ে মারা চার দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে বেশ।
শেষ ওভারে মাত্র ১টি বল খেলার সুযোগ হয় তার। নয়তো প্রথমবার বিপিএল খেলতে নেমে ফিফটি ছোঁয়া হয়ে যেত তার। তাতে দলের স্কোরবোর্ডও সমৃদ্ধ হতো। সিলেটের সেরা বোলার সামলান এরশাদ। ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন নাসুম ও মিরাজ।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে সিলেট। প্রথম দুই ওভারে বিনুরা জাকির হাসান ও আরিফুল ইসলামকে আউট করেন। তারা কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি। কিন্তু পারভেজ হোসেন ইমনকে থামানো যাচ্ছিল না কিছুতেই। দৃষ্টিনন্দন সব শট খেলে সিলেটকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন তিনি। আরেক প্রান্তে স্যাম বিলিং একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ব্যাটিং করছিলেন। ৬৯ রান যোগ করেন দুজন। রান আউটে শেষ হয় তাদের লড়াই। বিলিংয়েসের ডাকে সাড়া দিতে দিয়ে ৩৪ বলে ৪৮ রান করা পারভেজ রান আউট হন। ৫ চার ও ২ ছক্কায় পারভেজ আজ ছিলেন দারুণ ফর্মে। ক্রিজে থাকলে সিলেটের জয়ের সম্ভাবনা নিশ্চিতভাবেই বেড়ে যেত। সেখান থেকে সিলেটের হয়ে হাল ধরতে পারেননি কেউ। মঈন আলী ৭ রান করে স্পিনার রুবেলের বলে বোল্ড হন। আফিফ ১২ বলে করেন ২১ রান। সাকলায়েনকে স্লগ করতে গিয়ে বিলিংস সীমানায় ক্যাচ দেন ৩৭ রানে। শেষ ভরসা ওকস ১টি করে চার ও ছক্কায় ১০ বলে ১৫ রান করলেও তা যথেষ্ট ছিল না।
১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে রাজশাহীকে ফাইনালে তোলার নায়ক বিনুরা। ২৪ বলের ১৭টিতেই কোনো রান নিতে পারেননি। তাতে ম্যাচটা স্রেফ হাতছাড়া করে সিলেট। এছাড়া তানজিম, রুবেল ও গাফ্ফার ১টি করে উইকেট নেন।
রাজশাহীকে প্রথম কোয়ালিফায়ারে হারিয়ে ফাইনলে উঠেছে চিটাগং রয়্যালস। বিপিএলে তাদের লড়াই বেশ ভালো জমে উঠেছে। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে রাজশাহী ও চট্টগ্রামের ম্যাচটা হাই ভোল্টেজ হবে তা ধরে নেওয়াই যায়।