দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট চারদিন বন্ধের পর আবার উৎপাদনে ফিরেছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেরামত শেষে ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট করে। তৃতীয় ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটই নানা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সমস্যায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকে বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি গত বছরের ১৬ অক্টোবর ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কার্যত প্রথম ইউনিটের ওপরই নির্ভরশীল।
গত দুই মাসে প্রথম ইউনিটটি চারবার বন্ধ হয়েছে। চালু হওয়ার পরও এটি চার–পাঁচ দিনের বেশি টানা উৎপাদনে থাকতে পারছে না। সর্বশেষ গত ১৮ জানুয়ারি সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে গেলে ওইদিন কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটই পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম ইউনিটটি চালু হলেও প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। ইউনিটটি সচল রাখতে দৈনিক প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হবে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “প্রথম ইউনিটের মেরামত শেষে বুধবার বিকেল ৩টার দিকে বয়লারে ফায়ারিং শুরু করা হয়। রাত ৯টা ৩০ মিনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।”
তিনি জানান, কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটের মেরামত কাজ চলমান রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।