অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি শহরে গোলাগুলির ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরো একজন গুরুতর আহত হয়েছেন, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর বিবিসির।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে লেক কারজেলিগো শহরে ঘটা এই গোলাগুলোর ঘটনাটি তদন্ত করছে স্থানীয় পুলিশ।
পুলিশ জনসাধারণকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্দুকধারী এখনও পলাতক রয়েছেন।
পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইয়েলকিন স্ট্রিটের কাছে ওয়াকার স্ট্রিটে গোলাগুলোর খবর পেয়ে জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে তলব করা হয়। নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন।
‘দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাটি একটি সন্দেহভাজন পারিবারিক সহিংসতার হামলা হতে পারে। প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, কর্তৃপক্ষ এখনও বন্দুকধারীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে এবং ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত বিশেষ পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
‘সেভেন নিউজ’ জানায়, বন্দুকধারী স্থানীয় কাউন্সিলের মালিকানাধীন একটি গাড়িতে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে।
লেক কারজেলিগো নিউ সাউথ ওয়েলসের কেন্দ্রে অবস্থিত এবং এর জনসংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন।
গত মাসে সিডনির বন্ডি বিচে একটি বন্দুকধারীদের হামলায় ১৫ জনের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই দেশটিতে আবারো এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল।
অস্ট্রেলিয়ার সরকার বন্ডি বিচে বন্দুক হামলার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় দেশটিতে বন্দুক আইন আরো কঠোর করে সম্প্রতি একটি বিল পাস করেছে। এর আওতায় কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে একটি ‘জাতীয় বন্দুক ফেরত’ কর্মসূচি চালু করছে। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু আগ্নেয়াস্ত্র (যেমন বেল্ট-ফেড ম্যাগাজিন, সাইলেন্সার) ও সেগুলোর যন্ত্রাংশ আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা সীমিত করতে ব্যাকগ্রাউন্ড চেক আরো কঠোর করা হয়েছে।