বিনোদন

‘সেদিন টের পাইনি কাঁধে কত বড় দায়িত্ব বাবা দিয়ে গেলেন’

বাংলা সংগীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র, গুণী গীতিকবি, সুরকার ও সংগীত পরিচালক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের আজ মৃত্যুবার্ষিকী। বিশেষ দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভাসাচ্ছেন সহকর্মী, শিল্পী, ভক্ত ও অনুরাগীরা। কালজয়ী এই স্রষ্টার গান আর আদর্শ আজও মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে জীবন্ত ও সজীব।

২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি ভোর ৪টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর আফতাবনগরের নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। 

বাবাকে হারানোর দিনের কথা স্মরণ করে স্মৃতিচারণ করেছেন তার একমাত্র সন্তান সামির ইমতিয়াজ। তিনি বলেন, “আজ ২২ জানুয়ারি। এই দিনে বাবাকে হারিয়েছিলাম। এই গুণী মানুষটিকে নিজের হাতে যেদিন কবর দিয়ে আসি, সেদিন হয়তো টেরই পাইনি আমার কাঁধে কত বড় দায়িত্ব তিনি দিয়ে গেলেন। তার আদর্শ নিয়ে পথচলার চেষ্টা করছি।” 

বাবার সঙ্গে কাটানো সময়ের কথা তুলে ধরে সামির ইমতিয়াজ বলেন, “প্রিয় বাবার ছায়ায় আদরে-শাসনে বড় হয়েছি। আমি সত্যিই ভাগ্যবান যে, এত কাছ থেকে এমন একজন বাবাকে পেয়েছি। তার জীবনটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় শিক্ষা। তিনি ছিলেন আমার পাঠশালা। তার কাছ থেকে শিখেছি গিটারের তারে সুরের খেলা তৈরি করতে, শিখেছি সাহসী মানুষ হতে। শিখেছি স্রষ্টার দুনিয়ার গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা, শিখেছি দেশকে কীভাবে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে হয়। দেশকে ভালোবাসতে গেলে অনেক স্বার্থ জলাঞ্জলি দিতে হয়—এই শিক্ষাটাও পেয়েছি তার জীবন থেকেই।” 

ভক্তদের উদ্দেশে সামির ইমতিয়াজ বলেন, “আপনারা যারা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে ভালোবাসেন, তার গানকে ভালোবাসেন—আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ রাখছি, আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন। কৃতী মানুষের কি কখনো মৃত্যু হয়? হয় না। আর হয় না বলেই তিনি আজও বেঁচে আছেন আমাদের হৃদয়ে। তার সৃষ্টি, আদর্শ আর ভালোবাসার আলো হয়ে তিনি আজীবন মানুষের হৃদয়ে থাকবেন।” 

১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল সত্তরের দশকের শেষভাগ থেকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্প ও সংগীতাঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। 

রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, রাষ্ট্রপতি পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত এই সংগীতজ্ঞ প্রায় তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেছেন। অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা হিসেবে বাংলা সংগীতের ইতিহাসে অনিবার্য নাম—আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।