স্বাস্থ্য

স্তন ক্যান্সার রোধে স্ক্রিনিংয়ের বিকল্প নেই

স্তন ক্যান্সারে নারীদের মৃত্যু রোধে আগেভাগে ব্রেস্ট স্ক্রিনিং ও সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ডিআরইউ নারী সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য আয়োজিত বিনামূল্যে ব্রেস্ট স্ক্রিনিং ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন ।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) “বর্তমানে শিশুদের স্তন্যদান প্রবণতা কমে যাচ্ছে, যা নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। ধর্মেও শিশুকে স্তন্যদানে উৎসাহিত করা হয়েছে। নারীরা সমাজ ও জাতিকে প্রতিনিধিত্ব করে, তাই নারীর শরীর সুস্থ রাখতে ব্যায়াম করতে হবে, স্থূলতা পরিহার করতে হবে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তবেই রোগের প্রবণতা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।”

তিনি আরো উল্লেখ করেন, গত বছর মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে ছিল। পরীক্ষায় ৬৩ শতাংশ মেয়ে এবং ৩৭ শতাংশ ছেলে উত্তীর্ণ হয়। এতে প্রমাণ হয় মেয়েরা মেধায় এগিয়ে রয়েছে। অথচ এই মেধাবী নারীরাই কেউ মা, কেউ বোন, কেউ স্ত্রী; স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। স্তন ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী অন্যতম ঘাতক ব্যাধি। ২০২২ সালে বিশ্বে ৬ লাখ ৭২ হাজার মানুষ এই রোগে মারা গেছে, যার বেশিরভাগই নারী।

আগামী তিন বছরের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পুরো অবয়ব পরিবর্তন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আধুনিক প্রযুক্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে দেশের সব মেডিকেল কলেজের উন্নয়ন জরুরি। খুব শিগগিরই দেশে ১০টি পুরোনো মেডিকেল কলেজ ও ১৯টি হোস্টেল আধুনিকায়ন করা হবে, যাতে প্রায় ৮ হাজার ৯শ শিক্ষার্থী নিরাপদে থাকতে পারবে।”

ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় এবং সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিআরইউ নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না। অনুষ্ঠানে ডিআরইউর সাবেক নারী বিষয়ক সম্পাদক সুমি খান রচিত ‘স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুঝুঁকি থেকে সুরক্ষায় স্ক্রিনিং এবং সচেতনতা জরুরি’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করা হয়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এমডি এম এ মুবিন খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ এবং গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যান্সার হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী ও প্রিভেন্টিভ অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক, বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।

এছাড়া বক্তব্য দেন ডিআরইউর দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল, সাবেক সভাপতি শুকুর আলী শুভ এবং সাবেক নারী বিষয়ক সম্পাদক রোজিনা রোজী। এম এ মুবিন খান বলেন, “স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং করাতে হবে।” এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করায় তিনি ডিআরইউকে ধন্যবাদ জানান।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ বলেন, “ক্যান্সার আক্রান্ত একজন রোগী পুরো পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। নিয়ম মেনে চলা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং করালে এই রোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।” অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, “ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে নারীদের লাইফস্টাইল পরিবর্তন করতে হবে এবং শিশুদের স্তন্যদান নিশ্চিত করতে হবে। কারণ শতভাগ নারী কোনো না কোনোভাবে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকিতে রয়েছেন।”

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা, কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন এবং দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার সম্পাদক মফিজুর রহমান বাবুসহ অন্যান্যরা।