সাতসতেরো

সরস্বতীর বাহন কেন রাজহাঁস?

হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতীপূজা। শাস্ত্রমতে, প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী দেবীর বন্দনা করা হয়। এই পূজা হলো জ্ঞান, বিদ্যা ও সঙ্গীতের দেবী সরস্বতীকে আরাধনা করার উৎসব, যা মূলত মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়। 

পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, ‘‘সরস্বতী বিষ্ণুর জিহ্বাগ্র থেকে উৎপন্ন হয়েছেন এবং তিনি বিদ্যা, বুদ্ধি ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। ব্রহ্মা প্রথম সরস্বতীর পূজা করেন, যা পরবর্তীতে জগতে প্রতিষ্ঠিত হয়। সরস্বতী পূজার পরের দিন সন্তানের মঙ্গলকামনায় ‘শীতলষষ্ঠী’ ব্রত পালিত হয়ে থাকে, যা এই উৎসবের আরেকটি সামাজিক দিক।’’ 

ছবি: সংগৃহীত

সরস্বতীর বাহন কেন রাজহাঁস

বৈদিক সূত্র বলছে, সিংহ এবং মেষ সরস্বতীর আদি বাহন ছিল। পরবর্তীতে সিংহ দুর্গার বাহন হল, কার্তিকেয় বাহন হিসেবে বেছে নিলেন ময়ূর। তাই ব্রহ্মার শক্তি হিসেবে সরস্বতীর ব্রহ্মার বাহন হাঁসকেই বেছে নেন।

রাজহাসেঁর সবচেয়ে বড় গুণ হলো সার-অসার বা ভালো-মন্দ বিচার করতে পারে। কথায় বলে দুধ-জল মেশানো থাকলেও, তার মধ্যে থেকে দুধ বেছে খেতে পারে হাঁস। এমনকি পাঁকের মধ্যেও খুঁজে নিতে পারে নিজের খাবার। যা খারাপের মধ্যে থেকেও ভালোটা বেছে নেওয়ার প্রতীক। এই প্রতীক থেকে বোঝা যায়-চারপাশের নানা প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় খবরের মধ্যে কেবল সঠিক জ্ঞান গ্রহণ করা প্রয়োজন। মিথ্যের মায়া ত্যাগ করে সার বস্তু গ্রহণের শিক্ষা দেয় দেবীর বাহন।

একই সঙ্গে জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজন একাগ্র চিত্ত এবং ও শৃঙ্খলা পরায়ণতা। এই দুই গুণও রাজহাঁসের রয়েছে। তাই সে বিদ্যার দেবীর যোগ্য বাহন। 

তা ছাড়া হিন্দু শাস্ত্রে রাজহাঁসকে শৃঙ্খলা ও উৎকর্ষের প্রতীক হিসাবেও গণ্য করা হয়। শিক্ষার্থীর মধ্যে এই দুটি গুণ অপরিহার্য। সেই শিক্ষায় দেয় দেবীর বাহন।

হাঁস বা ‘হংস’ শব্দটি ভারতীয় দর্শনে গভীর তাৎপর্য বহন করে। ‘পরমহংস’ উপাধি আধ্যাত্মিক উৎকর্ষের সর্বোচ্চ স্তর বোঝায়। ‘হংস’ শব্দটি সংস্কৃত ভাষায় ‘আত্মা’ বা ‘পরমাত্মা’র সঙ্গে যুক্ত। যে ব্যক্তি ‘পরমাত্মা’ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে, সিদ্ধি লাভ করে জীবনের সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক স্তরে পৌঁছন, তাকে ‘পরমহংস’ উপাধি দেওয়া হয়। সরস্বতীর বাহন সেই ‘পরম জ্ঞান’ লাভের প্রতীক।

সূত্র: আনন্দবাজার ও এই সময়