এমন কিছু হবে শরিফুল ইসলাম কল্পনা করতে কী পেরেছিলেন? কল্পনা করতে না পারলেও বাঁহাতি পেসার নিজের ভাগ্য নিজেই লিখলেন। তাসকিন আহমেদকে পেছনে ফেলে বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের তালিকায় নাম তুলতে ফাইনালে ২ উইকেট প্রয়োজন ছিল শরিফুলের।
প্রথম স্পেলে কোনো উইকেট পাননি। বোলিং ছিল নিয়ন্ত্রিত। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে প্রথম ওভারে ১ উইকেট নিয়ে তাসকিনকে স্পর্শ করেন। এরপরই নাটকীয়তা। প্রতিটি বলে উইকেটের অপেক্ষা। রাজশাহীর ইনিংস ১৯.৫ ওভারে পৌঁছে যাওয়ার পরও উৎকণ্ঠা বেড়ে যাচ্ছিল। হবে তো? নাকি হবে না?
ভাগ্যবিধাতা শরিফুলকে হতাশ করেননি। ইনিংসের শেষ বলে বাঁহাতি পেসার উইকেট নিয়ে রেকর্ড চুরমার করে নিজের নাম লিখলেন। চট্টগ্রাম রয়্যালসের পেসার ১২ ম্যাচ পেলেন ২৬ উইকেট। ১০.০৭ গড় ও ৫.৮৪ ইকোনমিতে শরিফুল শুধু এবারের আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী নন, বিপিএলের ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীও।
কেন উইলিয়ামসনের বলে ছক্কা হজমের পরের বলটা স্লোয়ার করেছিলেন শরিফুল। এবার আর উইলিয়ামসন টাইমিং মেলাতে পারেননি। লং অন থেকে দৌড়ে মিড অনের কাছাকাছি এসে ক্যাচ নিলেন নাঈম শেখ। এই উইকেট নিয়ে তাসকিনের রেকর্ডে ভাগ বসান শরিফুল। ২০২৪ সালে রাজশাহীর হয়ে তাসকিন আহমেদ ১২ ম্যাচে ২৫ উইকেট নিয়েছিলেন।
রেকর্ড উইকেটটির জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হয় ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত। নাজমুল হোসেন শান্ত তার শর্ট বল উড়াতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দেন। বোলিংয়ের পর খানিকটা দৌড়ে বল তালুবন্দি করতেই উল্লাসে মেতে উঠেন শরিফুল। নিজেও জানতেন ২টি উইকেটে নতুন রেকর্ড গড়বেন। তাইতো তার উল্লাসটাও ছিল বাধনহারা।
শুরুর ২ ওভারে ১২ রান দেওয়া শরিফুল শেষ ২ ওভারে দেন ২১ রান। ৪ ওভারে ৩৩ রানে ২ উইকেট নিয়ে বিপিএল শেষ করেন। ২৬ উইকেট নিয়ে শরিফুল শীর্ষে। তার পরের স্থানে আছেন সিলেট টাইটান্সের নাসুম আহমেদ (১৮), রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের রিপন মন্ডল (১৭)। পরের দুটি স্থানে আছেন হাসান মাহমুদ (১৬) ও বিনুরা ফার্নান্দো (১৬)।