খেলাধুলা

যুব বিশ্বকাপে সুপার সিক্সে বাংলাদেশ

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে নিজেদের সম্ভাবনার প্রমাণ আরও একবার দিল বাংলাদেশ। শৃঙ্খলিত বোলিংয়ের পর আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অনায়াসে হারিয়ে গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে সুপার সিক্সে জায়গা করে নিয়েছে লাল-সবুজের যুবারা।

ম্যাচে টস জিতে আগে বল করার সিদ্ধান্তই বাংলাদেশকে এনে দেয় নিয়ন্ত্রণ। ইনিংসের শুরুতেই মার্কিন ব্যাটিং লাইনআপে ধাক্কা বসায় বোলাররা। মাত্র ৬ রানের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর অধিনায়ক উৎকর্ষ শ্রীবাস্তব ও সাহিল গার্গ কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি স্থায়ী হয়নি।

সাহিল ৩৪ রান করে বিদায় নেওয়ার পর আবারও ম্যাচের লাগাম শক্ত করে ধরে বাংলাদেশ। উৎকর্ষের ৩৯ রানের ইনিংসও বড় জুটি গড়তে ব্যর্থ হলে রানের গতি ক্রমেই শ্লথ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ১১৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

শেষদিকে আদনিত ঝাম্ব একপ্রকার একাই লড়াই চালিয়ে যান। ৬৯ বলে অপরাজিত ৬৮ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ১৯৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় দলটি। বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন পেসার ইকবাল হোসেন, যিনি ৩ উইকেট শিকার করেন। সহায়তা দেন আল ফাহাদ, শাহরিয়ার আহমেদ ও রিজান হোসেন- তিনজনই নেন দুটি করে উইকেট।

২০০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ শুরু থেকেই ছিল আত্মবিশ্বাসী। ওপেনার জাওয়াদ আবরার আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলেন ৪৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস। অপর প্রান্তে রিফাত বেগ খেলেন পরিমিত ও ধৈর্যশীল ক্রিকেট।

এরপর অধিনায়ক আজিজুল হাকিম দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। ৮২ বলে করা তার ৬৪ রানের ইনিংসেই জয়ের পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়। তার বিদায়ের সময় লক্ষ্য ছিল প্রায় নাগালের মধ্যেই। শেষদিকে কালাম সিদ্দিকি ও রিজান হোসেন কোনো ঝুঁকি না নিয়েই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচে ৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করে সুপার সিক্স নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় এক পয়েন্ট পেয়েছিল দলটি, আর প্রথম ম্যাচে হেরেছিল ভারতের কাছে। গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ, ভারত ও নিউজিল্যান্ড উঠে গেছে পরের পর্বে। বিপরীতে সব ম্যাচে হেরে ১৩ থেকে ১৬তম স্থানের প্লে-অফে নামতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল যে আরও দূর যেতে প্রস্তুত, সেটিই যেন স্পষ্ট করে দিল এই ম্যাচ।