চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চলা অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণেই স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. আজিজুর রহমান মুছাব্বির আহমেদকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিদেশে অবস্থানরত সন্ত্রাসী দাদা বিনাশ ওরফে দিলীপের নির্দেশেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি ডিবি পুলিশের।
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টার সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত রহিম এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত। এর আগে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুছাব্বির ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তেজগাঁও ও আশেপাশে কড়াইল বস্তি কেন্দ্রিক বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ফুটপাত এবং নির্মাণাধীন ভবন থেকে চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন জায়গার দখল বাণিজ্য নিয়ে স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। বিদেশে অবস্থানরত আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসী দাদা বিনাশ ওরফে দিলীপের নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।”
ঘটনার পেছনে অপরাধী চক্রের অনৈতিক স্বার্থ জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এরই অংশ হিসেবে মুছাব্বিরকে কৌশলে নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ওঁত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি গুলি করে। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।” তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিল, মুছাব্বির তাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল হোতাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে এই চাঁদাবাজির টাকার ভাগ কোথায় যেত এবং এর নেপথ্যে আর কোনো প্রভাবশালী নেতার মদদ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত ৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার পশ্চিম তেজতুরী পাড়ায় হোটেল সুপার স্টারের পাশের গলিতে মুছাব্বিরকে গুলি করে মোটরসাইকেলে আসা আততায়ীরা। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আবু সুফিয়ান ব্যাপারি মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন।
স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মাসুদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ৮ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন।