ক্যাম্পাস

শিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে যবিপ্রবি: ১৯ বছরে অর্জনের গল্প

ক্যাম্পাসজুড়ে রঙিন আলপনা, আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, কেক কাটা, বিভাগীয় পিঠা স্টল, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, জুলাই কর্ণার উদ্বোধন, দেশীয় লোকসংগীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ জাতীয় পতাকা এবং রিজেন্ট বোর্ডের সম্মানিত সদস্য অধ্যাপক ড. এইচ. এম. জাকির হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করেন।

সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভা, বেলুন উড়ানো ও কেক কাটার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য।

এরপর যবিপ্রবি উপাচার্য ও গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখরসহ অন্যান্য অতিথিরা জুলাই কর্ণার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য বিভিন্ন বিভাগের পিঠা উৎসবের স্টল, পথ আল্পনা ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন পরিদর্শন করেন। স্টলগুলোতে বাহারি আকৃতি ও ঋতুভিত্তিক নানা স্বাদের পিঠা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন, “যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স ও পরিসর তুলনামূলকভাবে কম হলেও শিক্ষা ও গবেষণায় এই বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। শিক্ষা ও গবেষণায় দেশের অনেক প্রবীণ বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে যবিপ্রবি।”

তিনি আরো বলেন, “এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে অত্যাধুনিক গবেষণাগার, আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের জন্য সুন্দর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং ক্রীড়া চর্চার জন্য দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জিমনেসিয়াম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরো এগিয়ে নিতে জমি অধিগ্রহণের বিকল্প নেই। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বরাবর ডিপিপি জমা দেওয়া হয়েছে।” সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় জমির চাহিদা পূরণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনে শিক্ষার্থীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে আলপনা, পিঠা স্টল ও বিভিন্ন আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। তাদের এই সৃজনশীলতা ও নিষ্ঠার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাফিউল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবি রিজেন্ট বোর্ডের সম্মানিত সদস্য অধ্যাপক ড. এইচ. এম. জাকির হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোছা. আফরোজা খাতুন, ডিনস কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. কোরবান আলী, ডিন অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. এস. এম. নূর আলমসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, চেয়ারম্যান, দপ্তর প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শাহনূর রহমান। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০৭ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাজিয়ালী মৌজায় ৩৫ একর জমির ওপর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আটটি অনুষদের অধীনে ২৭টি বিভাগে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ে প্রায় ৪ হাজার ২৩১ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এখানে ৩৪৫ জন শিক্ষক, ১৬২ জন কর্মকর্তা ও ৩৪৪ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।