ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, গণভোট দেশের রাজনীতির গতিধারা পাল্টে দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। আলোকিত ও গণতান্ত্রিক দেশ গড়তে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে।
রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত জাতীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, মনির হায়দার এবং ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ‘‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে গণভোট ও সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ নির্বাচনে জনগণ যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবেন। তবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।’’
‘‘একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে না বা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বিলুপ্ত হবে। এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কেউ যেন এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হন,’’ বলেন তিনি।
ধর্ম উপদেষ্টা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরশাসনের অবসান ঘটাতে হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। এ লক্ষ্য অর্জনে ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।’’
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, এই গণভোটে প্রার্থী কোনো ব্যক্তি নয়, প্রার্থী আমরা সবাই। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে দিকনির্দেশনা দেবে, ভবিষ্যতে সে অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।
নিপীড়নমূলক, স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসন যেন আর ফিরে না আসে, সে জন্য সবাইকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা, আর ‘না’ ভোট মানে ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন। এখানে কোনো মধ্যবর্তী অবস্থান নেই। নীরব থাকার সুযোগ নেই। নীরবতা মানেই ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. শামছুল আলম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন এবং তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সহস্রাধিক ইমাম ও খতিব অংশগ্রহণ করেন।