ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও অবাধ পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার গুলশানে বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, “ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৭(১) (ঘ) অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি আইন অনুযায়ী ‘অসৎ প্রভাব বিস্তার’ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।” এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন আরো অভিযোগ করেন, “একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং সরাসরি প্রচারে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাইছেন। কোথাও বলা হচ্ছে—একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়া ঈমানি দায়িত্ব’ কিংবা ‘কবরে গিয়ে বলা যাবে দ্বীন কায়েমের জন্য ওই প্রতীকে ভোট দেওয়া হয়েছে’, যা সম্পূর্ণভাবে ধর্মের অপব্যাখ্যা।”
তিনি বলেন, “এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচনি আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকিস্বরূপ।” এছাড়া বিএনপি অভিযোগ করে, একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, মোবাইল নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। এসব তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া ভোট, মৃত ব্যক্তির নামে ভোট প্রদান কিংবা আর্থিক প্রলোভনের আশঙ্কা রয়েছে।
আনসার ও ভিডিপি সদস্য নিয়োগ প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্থানীয়ভাবে বসবাসকারী ১৩ থেকে ১৫ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাই নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করতে নিজ থানার বাইরে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মাহ্দী আমিন জানান, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯, দণ্ডবিধি ১৮৬০ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি এসব বেআইনি কার্যক্রম বন্ধে এবং এনআইডি তথ্যের অপব্যবহার রোধে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, ২৯২টি আসনে বিএনপি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে। এসব প্রার্থীর মধ্যে ৮৫ জন সাবেক সংসদ সদস্য এবং ১৯ জন সাবেক মন্ত্রী। এছাড়া ২৩৭ জন প্রার্থী স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং এবার সর্বোচ্চ ১০ জন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি সফরে অংশ নেওয়া নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।