যেসব দলের নিবন্ধন বহাল আছে, তাদের সবার জন্য নির্বাচনে সমান সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, আইনি বাধা না থাকলে যে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবির প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।
ঋণ খেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ঋণখেলাপি সংক্রান্ত আইনে পরিবর্তনের বিষয়ে কমিশন চাইলে চিন্তাভাবনা করতে পারে। কমিশনের সবাই একমত হলে এমন সুপারিশ দেওয়া যেতে পারে যে, অল্প অংকের ঋণের ক্ষেত্রে যদি কেউ কেবল গ্যারান্টর হন, তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তবে বড় অংকের ঋণ হলে সে ক্ষেত্রে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে।”
তিনি বলেন, “বাস্তবে অনেক সময় গ্যারান্টরও পরবর্তীতে ঋণখেলাপি হয়ে যান। তবে আইনের দৃষ্টিতে গ্যারান্টর মূল ঋণগ্রহীতা নন। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রুলিং রয়েছে—ড. কামাল হোসেনসহ প্রখ্যাত আইনজীবীরা যে মামলায় যুক্ত ছিলেন, সেখানে রায় হয়েছে যে, কেবল অন্যের ঋণের গ্যারান্টর হলে নির্বাচন করতে বাধা নেই। ওই মামলাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সংক্রান্ত হলেও, সুপ্রিম কোর্ট একটি প্রিন্সিপাল সেট করে দিয়েছেন। সেই রুলিং এখনো বাতিল হয়নি বা এর বিপরীতে নতুন কোনো রায় আসেনি। ফলে নির্বাচন কমিশন তা অস্বীকার করতে পারে না।”
তিনি বলেন, “আরপিওর ৪১ ধারায় সরাসরি ঋণখেলাপিদের অযোগ্য ধরা হয়েছে। কিন্তু গ্যারান্টরদের ক্ষেত্রে ওই আইন প্রয়োগ করা হয়নি। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক ঋণখেলাপিই বিভিন্নভাবে আবার বৈধ হয়ে যাচ্ছেন।”
তিনি জানান, অনেক প্রার্থী কোর্ট থেকে চার সপ্তাহ বা দুই মাসের স্টে অর্ডার নিয়ে আসেন। তখন তারা সাময়িকভাবে ঋণখেলাপি হিসেবে গণ্য হন না। সে ক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসার বাধ্য হন তাদের বৈধ ঘোষণা করতে। কমিশনও তখন আইনগতভাবে বাধ্য থাকে। অনেক সময় অবৈধ ঘোষণার পরও প্রার্থীরা কোর্ট থেকে ফিরে আসেন।
দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি ব্যাখ্যার বিষয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধানে দ্বৈত নাগরিকত্ব বৈধ, তবে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ২০১১ সালে আইনে পরিবর্তন এনে বলা হয়, কেউ যদি বিদেশি নাগরিকত্ব পরিত্যাগ (রিনাউন্স) করেন, তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।”
“সমস্যা হচ্ছে ‘পরিত্যাগ’ বলতে কী বোঝাবে? এ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। কেউ বলেন, একতরফাভাবে ঘোষণা দিলেই হবে না; আবার কেউ বলেন, নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, ফি প্রদান এবং আবেদন প্রত্যাহারের সুযোগ না থাকলেই সেটি পরিত্যাগ হিসেবে ধরা যেতে পারে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. স্বাধীন মালিকসহ অনেকের লিখিত মতামত নেওয়া হয়েছে। তাদের মত অনুযায়ী, কেউ যদি তার পক্ষ থেকে যথাযথ ফোরামে আবেদন করে প্রয়োজনীয় ফি দেয়, তাহলে সেটিকে পরিত্যাগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে ধরা যেতে পারে। নির্বাচন কমিশন এই মাঝামাঝি অবস্থান গ্রহণ করেছে।
তিনি স্বীকার করেন, “এ কারণে বিভিন্ন জায়গায় রিটার্নিং অফিসাররা ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তাই কমিশন সবাইকে ডেকে একটি ইউনিফর্ম সিদ্ধান্ত দেওয়ার চেষ্টা করেছে।”
রাজনৈতিক চাপ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রাজনৈতিক চাপ আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “কোনো চাপ নেই। কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছে।”
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে আসুন, যাকে পছন্দ তাকে ভোট দিন। ভোট দেওয়া নাগরিক দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে।”
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফল গণনা নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফল একই সঙ্গে গণনা ও ঘোষণা করা হবে। একই ব্যালট বাক্সে দুই রঙের ব্যালট থাকবে। আলাদা করে গণনা সম্ভব এবং এতে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নেই।