সারা বাংলা

‘জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হলে যে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়ব’

জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে ব্যর্থ হলে কাস্টমসসহ যে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু বে ভিউতে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তারাই দেশের ‘অ্যাম্বাসাডর’ হয়ে উঠবেন।” বিনিয়োগ আকর্ষণে নানা উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবে অনেক বিনিয়োগকারী দেশে এসে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “সম্প্রতি মোবাইলে স্ক্রলিং করতে গিয়ে একজন বিদেশি বিনিয়োগকারীর অভিযোগ দেখেছি। তিনি বলেছেন, বিনিয়োগের কথা বলা হয়, রোড শো করা হয়, কিন্তু এখানে এসে তারা এমন অভিজ্ঞতা পান যে বিনিয়োগ থেকে সরে যেতে চান। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা যেন আশাহত না হন, তাদের প্রত্যাশা পূরণে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে।”

তিনি বলেন, “কাস্টমস দিবস যেন শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। আড়ম্বর করে কাজ শুরু করলেও শেষ না করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।” 

প্রযুক্তি ব্যবহারে অগ্রগতি এসেছে স্বীকার করে তিনি বলেন, “আমরা এগোচ্ছি, তবে যে গতিতে এগোনোর কথা ছিল, তা পারছি না। তাই আরও সিরিয়াস হতে হবে।”

নতুন প্রজন্মের দক্ষতার ওপর আস্থা রেখে এনবিআর সদস্য বলেন, “আমি আশাবাদী তরুণরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারবে।” 

সহকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জনসেবা প্রদানে মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। যারা সেবা দিচ্ছেন এবং যারা সেবা নিচ্ছেন, সবাই দেশের নাগরিক। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে উন্নত দেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব।”

‘অতন্দ্র প্রহরা আর দৃঢ় অঙ্গীকারে দেশের সুরক্ষায় বাংলাদেশ কাস্টমস’ প্রতিপাদ্যে এবার আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মো. নেয়ামুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কাস্টমসের কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাস্টমস বন্ড কমিশনার মো. মাহফুজুল হক ভূঞা বলেন, “শিল্পোদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বন্দরে আমদানি পণ্য পড়ে থাকলে ডেমারেজ গুণতে হয়।” তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানান, তাদের জনবলকে আইনি বিষয়ে প্রশিক্ষিত করলে সময়ক্ষেপণ কমবে।”

চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার শেখ আবু ফয়সাল মো. মুরাদ বলেন, “দায়িত্ব পালনে পারস্পরিক সম্মান ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি। চেয়ার বদল হতে পারে, এ উপলব্ধি থাকলে সমস্যা কমে আসে। এজন্য মাইন্ডসেট পরিবর্তন প্রয়োজন।”

কক্সবাজার কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মো. ফজলুল হক বলেন, “কাস্টমসের মূল কাজ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন। এনবিআর অটোমেশনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।” তিনি সবাইকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-১-এর কমিশনার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “রাজস্ব আহরণের পাশাপাশি কাস্টমসের আরো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজ, তাই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাস্টমসের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।”

চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবিদা সুলতানা বলেন, “নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কাস্টমস সেবা আরো বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন। নারীদের প্রশিক্ষণ ও ওরিয়েন্টেশন বাড়াতে হবে, যাতে রপ্তানিতে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়।”

স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ শফি উদ্দিন বলেন, “কাস্টমস বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন আর্থসামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং এটি বর্ডার ও রিস্ক ম্যানেজমেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে কাস্টমসের ভূমিকা আরো জোরদার হচ্ছে এবং ই-অকশন কার্যক্রম গতিশীল করা হচ্ছে।”

সভাপতির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উদযাপন আঞ্চলিক কমিটির আহ্বায়ক ও কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট (আপিল) কমিশনার আবুল বাসার মো. শফিকুর রহমান বলেন, “কাস্টমসকে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সহায়তা দিতে হয়। সময়ের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দেশের উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।”