পুঁজিবাজারের সদস্যভুক্ত তিনটি ব্রোকারেজ হাউজের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করা সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
এরই ধারাবাহিকতায় পুঁজিবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে অসঙ্গতি খতিয়ে দেখতে দুই সদস্য করে পৃথক তিনটি পরিদর্শন কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিটিগুলোকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিএসইসিতে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্রোকারেজ হাউজগুলো হলো-ইউনাইটেড ফাইন্যান্সিয়াল ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড (ডিএসই ট্রেক নম্বর-২২৭ ও সিএসই ট্রেক নম্বর- ৪৩), ইত্তেহাদ সিকিউরিটিজ লিমিটেড (ডিএসই ট্রেক নম্বর-১১০) ও কোস্ট টু কোস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেড (ডিএসই ট্রেক নম্বর- ১৯৮)।
সম্প্রতি এ সংক্রান্ত পৃথক পৃথক আদেশ বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন থেকে জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া বিএসইসির জারি করা আদেশ ইউনাইটেড ফাইন্যান্সিয়াল ট্রেডিং কোম্পানি, ইত্তেহাদ সিকিউরিটিজ ও কোস্ট টু কোস্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেহাদ সিকিউরিটিজের গঠিত পরিদর্শন কমিটির সদস্যরা হলেন-বিএসইসির সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম ও মো. আব্দুল আওয়াল।
ইউনাইটেড ফাইন্যান্সিয়াল ট্রেডিং কোম্পানির গঠিত পরিদর্শন কমিটির সদস্যরা হলেন- বিএসইসির উপ-পরিচালক মো. মুস্তাফিজুর রহমান ও সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সাদেকুর রহমান ভুঁইয়া।
কোস্ট টু কোস্ট সিকিউরিটিজের গঠিত পরিদর্শন কমিটির সদস্যরা হলেন-বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. হোসেন খান ও সহকারী পরিচালক সানজিদা রহমান।
জানা গেছে, পরিদর্শনকালে ব্রোকারেজ হাউজটির স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার হিসেবে কার্যক্রম, সিকিউরিটিজ আইন পরিপালনের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।এছাড়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আইন ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত দায়-দায়িত্ব পরিপালন, তদারকি, পুনর্মূল্যায়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক এএমএল/সিএফটি (অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং/কাউন্টার-টেরোরিজম ফাইন্যান্সিং) সিস্টেম চেক পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। তারই অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বিগত সরকারের আমলে আইন লঙ্ঘন করা ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বিরুদ্ধে তেমন কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন নতুন কমিশন সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে ঘাটতি থাকা ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।
বিএসইসির পরিদর্শনের আদেশ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন মনে করে, পুঁজিবাজার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে ইউনাইটেড ফাইন্যান্সিয়াল ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড, ইত্তেহাদ সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও কোস্ট টু কোস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেডের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করা প্রয়োজন।তাই সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০ এর রুল ১৭ এবং ক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক ডিলার, স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০ এর বিধি ১৫ ও ১৬ এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কমিশন উল্লিখিত দুইজন কর্মকর্তাকে ব্রোকারেজ হাউজটির বিরুদ্ধে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য নিয়োগ দিয়েছে। পরিদর্শন কর্মকর্তারা এই আদেশ জারির তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পরিদর্শন সম্পন্ন করবেন এবং কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন।
পরিদর্শন কমিটি যেসব বিষয় খতিয়ে দেখবে গঠিত পরিদর্শন কমিটি ইউনাইটেড ফাইন্যান্সিয়াল ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড, ইত্তেহাদ সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও কোস্ট টু কোস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেডের স্টক-ব্রোকার এবং স্টক-ডিলারের সামগ্রিক কার্যাবলী খতিয়ে দেখবে। সেখানে কোনো অসঙ্গতি ঘটেছে কি-না তা যাচাই-বাছাই করবে।সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করা হয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখবে পরিদর্শন কমিটি।ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক সমস্যা থাকলে সেটাও চিহ্নিত করবে গঠিত পরিদর্শন কমিটি।
একইসঙ্গে ব্রোকারেজ হাউজটির মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি) ব্যবস্থা নিয়েও বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হবে। মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী গঠিত পরিদর্শন কমিটি ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত শেষ হওয়া সময়ের জন্য ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর এএমএল/সিএফটি (অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং/কাউন্টার-টেরোরিজম ফাইন্যান্সিং) সিস্টেম চেক করবে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজারের শৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিদর্শন ও তদারকি করা হচ্ছে। পরিদর্শনে কোনো অনিয়ম বা বিধিলঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কমিশনের এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে অনিয়ম ও অসদাচরণ চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।