কারাগারে থাকতে স্ত্রী ও সন্তানকে হারানো বাগেরহাটের ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে সাদ্দামের পক্ষে শুনানি করা আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা সাংবাদিকদের বলেছেন, “উচ্চ আদালত মানবিক দিক বিবেচনা করে সাদ্দামকে জামিন দিয়েছেন।”
জুয়েল হাসান সাদ্দাম বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরাম দম্পতির ছেলে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বাগেরহাটে ফকিরহাটে ছাত্র-জনতাকে গুলি করা, বোমা বিস্ফোরণ ও স্থাপনা ধ্বংসের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আছেন তিনি।
গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী (২২) ও ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন শনিরার দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সুবর্ণার বাবার বাড়িতে আনা হয়। সেখানে গোসল শেষে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় তাদের মরদেহ। সেখানে স্ত্রী-সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন সাদ্দাম। ওই দিন স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে রাত ১১টা ২০ মিনিটে তাদের জানাজা হয়। পরে স্বর্ণালীর বাবার বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দুজনকে দাফন করা হয়। স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পরেও সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।