দুর্নীতির মামলায় বরিশাল বিআরটিএর সাবেক সহকারী পরিচালক শাহ আলমকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে বিচারক শেখ ফারুক হোসেন আবেদনটি না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিকেলে আদালত থেকে অভিযুক্ত শাহ আলমকে কারাগারে নেওয়ার সময় ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের বাধা দেন স্বজনরা। এ সময় পুলিশের সামনেই বরিশালের স্থানীয় একটি পত্রিকার ফটো সাংবাদিক আব্দুর রহমানকে লক্ষ্য করে লাথি মারেন শাহ আলম।
সাংবাদিক আব্দুর রহমান জানান, আদালতের আদেশের পর যখন শাহ আলমকে বের করছিল পুলিশ তখন তিনি ছবি তুলতে যান। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে শাহ আলম পুলিশের সামনে তাকে লক্ষ্য করে লাথি মারেন।
কারাগারে যাওয়া শাহ আলম বিআরটিএর বরিশাল, ঝালকাঠি এবং পিরোজপুর জেলার সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায় আড়াই হাজার বাস-ট্রাককে ভুয়া রেজিষ্ট্রেশন দিয়েছেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুল ইসলাম জানান, অবৈধ যানবাহনের রেজিষ্ট্রেশন প্রদান কারার অভিযোগে গত বছর শাহ আলমের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন ছিলেন তিনি। সোমবার সেই মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিন আবেদন করেন তিনি।
দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গত ৮ বছরে শাহ আলমের বিরুদ্ধে বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর এবং চট্টগ্রাম বিআরটিএতে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বরিশাল বিআরটিএ এবং ২০১৮-২০২১ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিআরটিএর সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত শাহ আলম। এর আগে, পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে দায়িত্বে থেকে প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার অবৈধ গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন দিয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে ২০২২ সালে বরিশাল বিআরটিএতে যোগদান করেন।
সূত্র জানায়, ওই বছরের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অবৈধভাবে ২৫৫টি গাড়ি অসংগতিপূর্ণভাবে রেজিষ্ট্রেশন করেন শাহ আলম। বিষয়টি জানাজানি হলে শাহ আলমের দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে একই বছর তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন বিআরটিএ প্রধান কার্যালয়ের উপ পরিচালক (প্রশাসন)। ভুয়া রেজিষ্ট্রেশন করা ২৫৫টি গাড়ির তদন্ত চলাকালীন ২০২২ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বরিশাল-ন-১১-০৭২০, বরিশাল-ন-১১-০৭৪৮ নম্বরসহ ৮৯টি অবৈধ গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করেন শাহ আলম। যার প্রতিটি রেজিষ্ট্রেশন মালিকের ঠিকানা চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এবং রেজিষ্ট্রেশনকৃত গাড়ির মালিক ওই বিভাগের স্থানীয় বাসিন্দা ও ভোটার। যা বিআরটিএর আইন ও অফিস আদেশের অমান্য করে রেজিষ্ট্রেশন দিয়েছেন বরিশাল বিআরটিএ থেকে।