টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে আইসিসির ভূমিকা নিয়ে এবার সরব হলেন পাকিস্তানের সাবেক ব্যাটিং কিংবদন্তি মোহাম্মদ ইউসুফ। বৈশ্বিক ক্রিকেট পরিচালনায় “নির্বাচিত সহনশীলতা” ও পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন এত বড় দর্শকভিত্তি থাকা একটি দেশের নিরাপত্তা উদ্বেগকে কীভাবে উপেক্ষা করা যায়?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইউসুফ বাংলাদেশের দর্শকশক্তির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তার ভাষায়, “নিউ জিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, স্কটল্যান্ড, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান; এই ১০ দেশের সম্মিলিত ক্রিকেট দর্শকসংখ্যা প্রায় ১৭৮ মিলিয়ন। একা বাংলাদেশই দেয় প্রায় ১৭৬ মিলিয়ন দর্শক।” অর্থাৎ, একটি দেশের অবদান প্রায় ১০ দেশের সমান।
ইউসুফের মতে, বৈশ্বিক দর্শকনির্ভর এই খেলায় এমন একটি দেশকে পাশ কাটানো গভর্ন্যান্সের বড় প্রশ্ন তোলে। “যখন সমন্বয় বা ছাড় কেবল নির্বাচিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, তখন ন্যায্যতা হারায়। ক্রিকেট প্রভাব দিয়ে নয়, নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত,” লিখেছেন তিনি।
এই মন্তব্য আসে আইসিসির সেই সিদ্ধান্তের পর, যেখানে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে ভারতে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিসিবি তাদের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ করলেও আইসিসি তা নাকচ করে জানায় ভারতে কোনো “বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি” নেই।
মূলত বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে হুমকির প্রেক্ষাপটে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার খবর সামনে আসে। বাংলাদেশ এটিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলে যদি এক খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তবে পুরো দলের নিশ্চয়তা কীভাবে মিলবে? আইসিসি অবশ্য জানায়, এটি অভ্যন্তরীণ (ডোমেস্টিক) বিষয় এবং বিশ্বকাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত নয়।
এদিকে পাকিস্তান প্রকাশ্যেই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। গণমাধ্যমে জানা যায়, পিসিবি প্রতিবাদের নানা পথ বিবেচনা করছে। এমনকি ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের কথাও। রবিবার লাহোরে দলের সঙ্গে বৈঠকে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি বলেন, “বিসিবির সিদ্ধান্ত নীতিগত। আইসিসির দ্বৈত মানদণ্ড আমরা প্রত্যাখ্যান করি। ক্রিকেটের সোনালি নীতিই আমাদের পথনির্দেশ।”
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) নকভি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গেও বৈঠক করেন। চূড়ান্ত ঘোষণা না এলেও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত। পিসিবি জানিয়েছে, শুক্রবার বা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই শেষ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সব বিকল্পই খোলা।