সারা বাংলা

দিনাজপুর-৬: প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা ফিরোজের

দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-হাকিমপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহনেওয়াজ ফিরোজ সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে হাকিমপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে শাহনেওয়াজ ফিরোজ জানান, নির্বাচনি প্রচার শুরুর আগ থেকেই তিনি ও তার পরিবারকে ধারাবাহিকভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনি প্রচারে বাধা ও জমি দখলচেষ্টার মুখে পড়ছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি দাবি তার।

তিনি অভিযোগ করেন, সোমবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তার চাচাতো ভাই নুরসা ফোন করে জানান, বিরামপুরে তাদের পারিবারিক জমি দখল করে প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টি জানার পর তিনি বিরামপুর থানায় অভিযোগ করতে বলেন। অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

স্বতন্ত্র এই প্রার্থীর ভাষ্য, গত ২২ জানুয়ারি নির্বাচনি প্রচারের প্রস্তুতির সময় বিরামপুর বাজার এলাকায় তার পরিবারের জমিতে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী জোরপূর্বক প্রাচীর নির্মাণ করে দখলচেষ্টা চালায়। এ সময় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে তাকে আদালতের আশ্রয় নিতে বলা হয়। থানার ওসি, ইউএনও ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। 

তিনি জানান, এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন। কিন্তু পরদিন ২৩ জানুয়ারি তার আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচার শুরুর সময়েও হামলার চেষ্টা চালানো হয়। ওই সময় স্থানীয় গ্রামবাসী ও সমর্থকদের সহায়তায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান।

শাহনেওয়াজ ফিরোজের অভিযোগ, নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা দেওয়ার বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তাতেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। এমনকি প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত ম্যানুয়াল চাইলেও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে তা পাননি বলে জানান তিনি।

এই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, “যে প্রশাসন একটি নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়াল সরবরাহ করতে পারে না, তাদের পক্ষে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়।” এ কারণে সবদিক বিবেচনায় নিয়ে নিজের ও পরিবারের জান-মালের নিরাপত্তার কথা ভেবে দিনাজপুর-৬ আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, “তিনি (শাহনেওয়াজ ফিরোজ) প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন, এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে, আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমার সঙ্গে তার কোনো দেখা-সাক্ষাৎ বা যোগাযোগ হয়নি।”

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাহমিনা সুলতানা নীলা জানান, “এ বিষয়ে আমি জানি না, উনি আমাকে লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ করেননি।”

দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি বলেন, “বিরামপুরে বিএনপির অবস্থান শক্ত হওয়ার কারণে তারা এক ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।” 

এ বিষয়ে জানতে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের ব্যবহৃত সরকারি নম্বরে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।