ভারতের দক্ষিণী সিনেমার তারকা রজনীকান্ত অভিনীত ‘কুলি’ সিনেমা গত বছর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। লোকেশ কঙ্গরাজ নির্মিত সিনেমাটি প্রত্যাশা অনুযায়ী আয় করতে পারেনি। কারণ এটিও থালাপাতি বিজয়ের সিনেমার মতো সেন্সর বোর্ডের সার্টিফিকেট নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন। পরিচালক লোকেশের দাবি—“এ কারণে সিনেমাটি মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারিয়েছে।”
লোকেশ কঙ্গরাজ বলেন, “তারা নয়টি শব্দ মিউট করতে বলেছিল, তা আমি মেনে নিতে পারতাম। কিন্তু ৩৫টি কাট নয়। প্রশ্ন ছিল—‘এ’ সার্টিফিকেট নিয়ে সম্পূর্ণ সিনেমা মুক্তি দেব, নাকি ‘ইউএ’ সার্টিফিকেট নিয়ে অসম্পূর্ণ সিনেমা মুক্তি দেব? রি-সেন্সরের জন্য পুনরায় আবেদন করেছিলাম। কিন্তু সেন্সর বোর্ড আবারো একই (৩৫টি) কাটের সুপারিশ করে।”
সেন্সর বোর্ডের নির্দেশিত পরিবর্তনের ফলে ‘কুলি’ সিনেমার প্রভাব অনেকটা নষ্ট হয় বলে দাবি পরিচালকের। লোকেশ কঙ্গরাজের ভাষায়—“আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকার পরও সিনেমাটির মূল ভাবনা অক্ষুণ্ণ রাখাই ছিল তাদের লক্ষ্য। পুনরায় সেন্সরের পরও ইতিবাচক ফলের আশা ছিল। কিন্তু বোর্ড সিদ্ধান্ত বদলায়নি।”
সিনেমাটিতে ইলেকট্রিক ক্রিমেশন (বৈদ্যুতিক শ্মশান) দেখানোর কারণে ‘এ’ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে বলে দাবি পরিচালকের। লোকেশ কঙ্গরাজের মতে—“বোর্ড জানিয়েছে, ইলেকট্রিক ক্রিমেশনের দৃশ্য থাকার কারণে থিমের দিক থেকে সিনেমাটি ‘এ’ সার্টিফিকেটের আওতায় পড়ে।”
তবে শেষ পর্যন্ত কোনো কাটছাঁট ছাড়াই ‘এ’ সার্টিফিকেট নিয়ে মুক্তি পায় সিনেমাটি; যার ফলে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকরাই সিনেমাটি দেখতে পারেন। লোকেশের ভাষ্য—“এই সীমাবদ্ধতার প্রভাব সরাসরি সিনেমাটির ব্যবসায়ীক সাফল্যের ওপরে পড়ে। এতে করে ৪০–৫০ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫৩-৬৬ কোটি টাকা) রাজস্ব লোকসান হয়েছে।”
অ্যাকশন-থ্রিলার ঘরানার ‘কুলি’ সিনেমায় দেবা চরিত্রে অভিনয় করেন রজনীকান্ত। তার চরিত্রটি রহস্যেঘেরা। এতে তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন বরেণ্য অভিনেতা নাগার্জুনা আক্কিনেনি ও বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খানও। তাছাড়া বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন—উপেন্দ্র, শ্রুতি হাসান, সত্যরাজ, রচিতা রাম, কালি ভেঙ্কট, চার্লি প্রমুখ। সিনেমাটির আইটেম গানে পারফর্ম করেছেন পূজা হেগড়ে।
*ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে