যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হলো। সাবেক ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটার প্রকাশ্যে সমর্থন জানালেন এমন আহ্বানে। যেখানে সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখা থেকে “দূরে থাকার” পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির আচরণ নিয়েই এই উদ্বেগ।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ব্লাটার সুইস দৈনিক ডের বুন্ড–এ দেওয়া মার্ক পাইথের মন্তব্য উদ্ধৃত করে লেখেন, “আমি মনে করি, মার্ক পাইথ এই বিশ্বকাপ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে একেবারেই সঠিক।” পাইথ একজন খ্যাতনামা সুইস আইনজীবী ও দুর্নীতিবিরোধী বিশেষজ্ঞ; এক দশক আগে তিনি ফিফার সংস্কার কার্যক্রমের তদারকিতে স্বাধীন গভর্ন্যান্স কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ব্লাটার নিজেও ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ফিফার সভাপতি ছিলেন, পরে দুর্নীতি তদন্তের মধ্যে পদত্যাগ করেন।
ডের বুন্ড–এ পাইথ বলেন, “সবকিছু বিবেচনা করলে সমর্থকদের জন্য একটাই পরামর্শ- যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন না। টিভিতে দেখাই ভালো। আর যদি যানও, কর্মকর্তাদের মনঃপূত না হলে সরাসরি পরের ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হতে পারে- ভাগ্য ভালো থাকলে।”
২০২৬ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে যুক্তরাষ্ট্রের উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে। এর পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সম্প্রসারণবাদী বক্তব্য, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং অভিবাসী ও অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান। বিশেষত মিনিয়াপোলিসসহ বিভিন্ন শহরে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ওকে গ্যোটলিশও সম্প্রতি বলেন, বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি এখন “গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে।” আফ্রিকার শীর্ষ দুই ফুটবল দেশ সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের সমর্থকদের ভ্রমণ পরিকল্পনাও ডিসেম্বরেই বিপর্যস্ত হয়, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা না থাকলে কার্যত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একইভাবে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা ইরান ও হাইতির সমর্থকরাও যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবেন না।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টিকিটের চড়া দাম। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১৯ জুলাই ফাইনালের ক্যাটাগরি–১ টিকিটের তালিকামূল্য ধরা হয়েছে ৮,৬৮০ ডলার। ডায়নামিক প্রাইসিংয়ের কারণে যা আরও বাড়তে পারে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য বলেছেন, “মানুষ যেতে চায়, যাবে। ফুটবল সবাই মিলে উদযাপন করা হয়।”
তবু ব্লাটারের সমর্থন পাওয়া এই আহ্বান বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।