সারা বাংলা

বগুড়া-২: মান্নার কর্মী-সমর্থক‌দের ভয়ভীতি দেখানোর অভি‌যোগ

বগুড়া-২ আসনে নির্বাচনি প্রচারে নিজের কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ৮টায় বগুড়া প্রেস ক্লা‌বে এই অভিযোগ করেন তিনি।

মাহমুদুর রহমান মান্না ব‌লেন, ‍“বগুড়া-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম বলে বেড়াচ্ছেন, তিনি ক্ষমতায় ইতোমধ্যে চলে গেছেন। যারা তার বিরুদ্ধে যাবেন, তাদের নির্বাচনের পরে দেখে নেবেন। এমন শক্তি প্রদর্শন করে আমার সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদেরকেও থ্রেট দেওয়া হচ্ছে, ১২ তারিখের পরে তোমাদের দেখে নিব বলে।” 

তিনি বলেন, “আমার পক্ষে যে নারী কর্মীরা কাজ করছেন, তাদের বাধা দেয়াসহ ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। থানায় মামলা করতে গিয়েছি, কিন্তু সেখানেও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। পুলিশ বলে, আপনাদের বিষয় আপনারা নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে নেন। তারা ক্ষমতায় চলে এসেছে ভেবে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মামলা লিখতে ভয় পাচ্ছে। তবে আমিও হার মানব না, আমি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।”

মাহমুদুর রহমান মান্না ব‌লেন, “শুরু থেকেই আমার সাথে অনেক খেলা হয়েছে। প্রথম খেলাটা হয়েছে আমার ব্যাংকের লোন নিয়ে। আপনারা সবাই জানেন, আমি ব্যবসা করি। আমার একটি টেক্সটাইল মিল আছে, যা আমি নিজে চালাই না, লোক দিয়ে চালাই। সেই ব্যাংকের লোনটাকে কেন্দ্র করে আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য এবং আমার প্রার্থিতা বাতিল করার জন্য একটা বিশাল ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। তারা এটাকে প্রচার করেছে, যে আমি নাকি ব্যাংক ডিফল্টার বা ঋণখেলাপি।” ​ “আমি আপনাদের স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমি ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করেছি এবং ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ব্যাংক আমাকে রি-শিডিউল করার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু একটা বিশেষ মহল থেকে প্রেসার ক্রিয়েট করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড মিটিং হওয়ার আগেই স্থানীয় পর্যায় থেকে আমাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ, সত্যি কখনো চাপা থাকে না। আমি আইনি লড়াই করেছি এবং আজ আপনাদের সামনে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছি”, যোগ করেন তিনি।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ব‌লেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আপনারা দেখছেন, এলাকায় কী হচ্ছে। এলাকায় একটা নতুন ব্যবসা শুরু হয়েছে, যেটাকে আমি বলছি, ‘মামলা বাণিজ্য’। নিরীহ মানুষদের নামে মামলা দেওয়া হচ্ছে, আর সেই মামলা থেকে নাম কাটার কথা বলে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক।”

তিনি ব‌লেন, “আমার কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। বিশেষ করে আমাদের নারী কর্মীরা যখন হ্যান্ডমাইক নিয়ে প্রচারে যাচ্ছে, তখন তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, নির্বাচনের পরে তাদের দেখে নেওয়া হবে।”

“থানা বা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যদি বলি, অনেক সময় দেখা যায়, প্রভাবশালী মহলের চাপে তারা সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারছে না। অনেক সময় মামলা নিতে গড়িমসি করা হয়। আমি প্রশাসনকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, আপনারা কোনো দলের বা কোনো ব্যক্তির অনুগত হবেন না। আপনারা রাষ্ট্রের কর্মচারী। সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করা আপনাদের দায়িত্ব।”

আমি বিশ্বাস করি, “এলাকার মানুষ সচেতন। তারা জানে কারা তাদের পাশে ছিল আর কারা ষড়যন্ত্র করছে। যত বাধাই আসুক, ইনশাআল্লাহ ভোটাররা যদি কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোট দিতে পারেন, তবে সত্যের জয় হবেই। আমি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি, যেখানে কারচুপি বা ভয়ের কোনো জায়গা থাকবে না।”

সংবাদ স‌ম্মেল‌নে উপ‌স্থিত ছিলেন- নাগ‌রিক ঐক্যের বগুড়া জেলা ক‌মিটির সদ‌স্য মশিউর রহমান পিয়াল, কে‌ন্দ্রীয় সদস্য আবদুর রাজ্জাক, জেলা সমন্বক রা‌জিয়া সুলতানা ইভা, নাগ‌রিক ঐক্যের শিবগঞ্জ উপ‌জেলা ক‌মি‌টির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক সরকার, মাহমুদুর মান্নার আপন ছোট ভাই মুশফিকুর রহমান আন্নাসহ আরো অ‌নে‌কে।