আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ‘প্রস্তুতি’ মহড়া শুরু

যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বড় ধরনের সামরিক মহড়া শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য অতিরিক্ত নৌবাহিনী মোতায়েনের ঘোষণার পরপরই এই মহড়া শুরু হলো, যা ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। 

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটি। 

ইউএস এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল (এফসেন্ট) গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জানায়, এই ‘প্রস্তুতি মহড়া’র মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধবিমানগুলোর দ্রুত মোতায়েন এবং তা সচল রাখার সক্ষমতা প্রদর্শন করা। এই অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন ‘জরুরি অবস্থানে’ সেনা ও বিমান মোতায়েনের প্রক্রিয়া যাচাই করা এবং ‘অংশীদার দেশগুলোর’ সঙ্গে কমান্ড ব্যবস্থার সমন্বয় সাধন করা।

এ বিষয়ে এফসেন্ট-এর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডেরেক ফ্রান্স বলেন, “আমাদের বিমান সেনাদের যুদ্ধ-প্রস্তুতি বজায় রাখা এবং যখন যেখানে প্রয়োজন সেখানে বিমান শক্তি নিশ্চিত করার জন্য যে সুশৃঙ্খল কার্যকারিতা দরকার, তা বজায় রাখাই এই মহড়ার মূল লক্ষ্য।”

রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদন অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্যে নৌ ও আকাশপথের শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া কয়েকদিনব্যাপী আকাশপথের এই মহড়া মূলত বড় ধরনের মার্কিন নৌ-তৎপরতার অংশ। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং এর সঙ্গে থাকা গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধজাহাজগুলো চলতি সপ্তাহের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে প্রবেশ করেছে।

এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ও থাড আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।

মঙ্গলবার এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “আরেকটি নৌবহর বহর এখন ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে তেহরান ‘একটি চুক্তিতে আসবে’। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ইরানের কাছে মোতায়েন করা এই নৌবহরটি ভেনেজুয়েলা অভিযানে ব্যবহৃত বহরের চেয়েও বড়।

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর ব্যবস্থার কারণে তেহরানকে ‘শাস্তি’ দিতে ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ ধরেই হামলার কথা ভাবছেন। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি, তবে মিডল ইস্ট আই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উপসাগরীয় অঞ্চলের এক কর্মকর্তা জানান যে, ওয়াশিংটন ইরানি কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের ওপর সুনির্দিষ্ট হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

ইরান এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যেকোনো সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার ‘দ্রুত ও ব্যাপক’ জবাব দেওয়া হবে।

ইরানে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেই এই সংকটের সূত্রপাত। কর্মকর্তাদের মতে, ওই বিক্ষোভে প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরি করতে এই অস্থিরতায় উসকানি দিচ্ছে।