ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি পুনরায় দেশটির ক্ষমতা এলে ইরাককে দেওয়া সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরাকের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মালিকিকে দেশটির পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া জোট সমর্থন দেওয়ার পর, ট্রাম্প এই হুমকি দিলেন। মালিকি ইরানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেন, “মালিকি খুবই খারাপ একটি পছন্দ।” তিনি আরো যোগ করেন, “গতবার যখন মালিকি ক্ষমতায় ছিলেন, তখন দেশটি দারিদ্র্য ও চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে নিমজ্জিত হয়েছিল।”
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ‘কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ নামক শিয়া জোটের সমর্থন পাওয়ার পর, নিয়ম অনুযায়ী মালিকিকে প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে মনোনীত করার কথা। ইরাকের প্রেসিডেন্ট পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক বা আলঙ্কারিক। তবে মঙ্গলবার পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা থাকলেও প্রার্থীর বিষয়ে একমত হতে না পারায় তা পিছিয়ে যায়।
মঙ্গলবার ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সহায়তা ছাড়া ইরাকের সফল হওয়ার সম্ভাবনা ‘শূন্য’। তিনি সতর্ক করে বলেন, “মালিকি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্র আর দেশটিকে সাহায্য করবে না।”
বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, অন্য দেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়ই প্রচলিত কূটনৈতিক রীতি ভেঙে চলেন। সম্প্রতি তিনি পোল্যান্ড, রোমানিয়া এবং হন্ডুরাসের ডানপন্থি প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন। এছাড়া চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউ ইয়র্কে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য নিয়ে আসে।
২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর ইরাকের নেতৃত্বে আসেন মালিকি। ২০০৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তার শাসনামলে কুর্দি ও সুন্নি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চরম সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধীদের ওপর তার কঠোর দমন-পীড়নকে সুন্নি উগ্রবাদী গোষ্ঠী আইএসের উত্থানের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়, যারা ২০১৪ সালের মধ্যে ইরাকের বিশাল এলাকা দখল করে নিয়েছিল, এর জেরে মালিকি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।