সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের এখন থাকার কথা ছিল বেঙ্গালুরুতে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল আফগানিস্তান ও নামিবিয়ার বিপক্ষে। কিন্তু বিশ্বকাপ বয়কট করায় বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা এখন অনির্দিষ্টকালের অলিখিত ছুটিতে।
বিপিএল শেষে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত অনিশ্চিত ভবিষ্যতের যে বার্তা দিয়েছিলেন তা এখন সব ক্রিকেটারের মুখে। বাংলাদেশের টেস্ট দলপতি বলেছিলেন, ‘‘খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক (বিশ্বকাপ খেলতে না পারা) । কিন্তু কিছু করার নেই। চিন্তা তো একটু হয়। অস্বীকার করার কিছু নেই। ক্রিকেটার হিসেবে অবশ্যই চিন্তা হচ্ছে।’’ কেমন ধরনের চিন্তা—এই প্রশ্নে অবশ্য আর গভীরে যাননি নাজমুল। হালকা হাসিতে বলেছিলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে অনেক রাত হয়ে যাবে।’
সামনে কোন খেলা আছে কিনা তারা কেউই জানেন না। ক্রিকেট অপারেশন্স থেকেও দেওয়া হয়নি কোনো খবর। তাই অফুরন্ত সময় তাদের কাছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের ‘ছুটিতে’ যাচ্ছে দেশের ক্রিকেট। আপাতত জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে কোনো প্রতিযোগিতা কিংবা ট্রেনিং সেশন আয়োজন করা হচ্ছে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন। সপ্তাহখানেক পরই ক্রিকেটাররা মাঠে ফিরবেন।
বিপিএল শেষে ক্রিকেটাররা এখন যার যার মতো করে ছুটিতে গিয়েছেন। কেউ ফিরেছেন বাড়িতে। কেউ আছেন ঢাকাতেই। দুয়েক দিনের মধ্যে কেউ কেউ চলে যাবেন বিদেশে বেড়াতে। এ সময়ে পারিবারিক আয়োজনগুলোতেও যোগ দিচ্ছেন ক্রিকেটাররা।
তবে মাঠের মানুষ, ২২ গজে ছুটে চলা মানুষগুলো মাঠে ফিরবেন কবে? বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটি থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনের পর ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরাতে চায় বিসিবি। এজন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের চারদিনের আয়োজন এবং জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ আয়োজন করতে চায় বিসিবি। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজন করা হবে বিসিএলের চারদিনের প্রতিযোগিতা।
এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজে রয়েছে টেস্ট ম্যাচ। সেই প্রস্তুতিতেই বিসিএল চারদিনের প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে চাচ্ছে টুর্নামেন্ট কমিটি। তবে এ সময়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের আয়োজন করার কথা ছিল সিসিডিএমের। কিন্তু তা আলোর মুখ দেখার কথা নয়। কেননা ঢাকার ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ১২ দলের ৯টিই লিগ বয়কটের পক্ষে। ‘অবৈধ বোর্ডের’ অধীনে তারা কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে না সাফ জানিয়ে দিয়েছে।
মিরপুর হোম অব ক্রিকেটে সারা বছর ব্যস্ততা থাকে। এখন মিরপুরে পিনপতন নিরাবতা। ক্রিকেটারদের আনাগোনা না থাকায় ঢিমেতালে চলছে সব কার্যক্রম। এই নিরাবতা কেবলই জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে। নির্বাচনের পরপরই পাওয়া যাবে ব্যাট-বলের ঠুকঠাক শব্দ।