সাকিব আল হাসান কি আর বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ পাবেন? অনেকের চোখেই বাংলাদেশের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে সাকিবের। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক।
তবে সাকিব এখনো আশাবাদী বাংলাদেশের হয়ে আবারও খেলার সুযোগ হবে তার। বিদায় বলার আগে অন্তত দেশের মাটিতে একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে চান বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। বারবার নিজের চাওয়া, প্রত্যাশার কথা বলেছেন বিভিন্ন মাধ্যমে।
হঠাৎ সাকিবকে নিয়ে আলোচনা উঠার কারণ, বোর্ডের সবশেষ সভায় সাকিবকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বোর্ড পরিচালকের দাবি, সাকিবের সঙ্গে বোর্ডের ফেরানো নিয়ে কথা হয়েছে। সরকারের সঙ্গেও কথাও বলবে বিসিবি।
সাকিবকে ফেরানো কি আসলেও সম্ভব? সাকিবের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকা ইমরুল কায়েস মনে করেন, বোর্ড ও সরকার উদ্যোগ নিলে সাকিব দেশের মাটিতেই অবসর নিতে পারবেন। তার ভাষ্য, ‘‘অসম্ভবের তো কিছু দেখি না। যখন প্রথম আলোচনা হয়েছিল শুরুতে সাকিব তো দুবাইয়ে চলে এসেছিল (২০২৫ সালে) । তখনও কিন্তু মানুষজন ওভাবের রিঅ্যাক্ট করেনি। সাকিব বাংলাদেশে আসবে, তার আগে দেশের হয়ে পাকিস্তানে খেলেছে…সাকিব তো বাংলাদেশেরই খেলোয়াড়। ৫ আগস্টের আগে-পরে কি হয়েছে তা তো সবাই দেখেছে।’’
‘‘সাকিবের আসা, খেলাটা স্বাভাবিক ছিল। ভেতরে এতো কিছু হলো সবাটাই তো অনাকাঙ্খিত। আশা করছি যারাই এখন সিদ্ধান্ত নেবেন কিংবা দায়িত্বে আছেন, সাকিবের যে সম্মানটা পাওয়ার সেটা তারা চিন্তা করেছেন। আমি আশা করি সাকিবের সম্মান সাকিব পাবেন। শুধুমাত্র সাকিবের জন্য না, আমাদের যারা পরবর্তী প্রজন্ম আসবে তারা জানবে ও দেখবে একটা লিগ্যাসি আছে। সাকিব আল হাসান বাংলাদেশে এভাবে রিটায়ার্ড করেছে। এটা দেখেও যেন পরবর্তী প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হয়। সাকিব ভাইয়ের মতো অবসরে যেতে চাই। যেটা আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসে হয়নি। আমার মনে হয় এটা সাকিবের প্রাপ্য ও করা উচিত।’’ – যোগ করেন তিনি।
একই সুরে সাকিবের জন্য ব্যাট করলেন জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, ‘‘প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ই কিন্তু চায় সুন্দরভাবে অবসরটা যেন হয় এবং আমরা তো সকলেই জানি সাকিব ভাইয়ের বাংলাদেশের অবদান কতটা বড়। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের কিংবদন্তি খেলোয়াড়। বাংলাদেশের জন্য অনেক অর্জন করেছেন। এ রকম একজন কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের অবসর যদি সুন্দরভাবে হয় তাহলে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জন্য বিরাট পাওয়া হবে।’’
২০২৪ সালে ভারত সফরের পর থেকেই জাতীয় দলের বাইরে সাকিব। তবে বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিয়মিতই খেলে বেড়াচ্ছেন সাকিব। কিছুদিন আগে খেলেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টিতে (আইএল টি-টোয়েন্টি)। সাকিব জানিয়েছেন, দেশের হয়ে খেলার মতো ফিট থাকতেই এসব লিগে খেলছেন। তবে ৩৮ পেরোনো সাকিবের ফিটনেস কি আসলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার মতো অবস্থায় থাকবে?
ইমরুল সাকিবের ফিটনেস ইসু্য ছাপিয়ে অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করলেন, ‘‘সাকিব তো বলছে না যে, আমি আরো দুই বছর ক্রিকেট খেলবো। সাকিব বলেছে আমি দেশে অবসর নিতে চাই। দেশের মাটিতে একটা ম্যাচ বা একটা সিরিজ খেলতে চাই। এই সময়ে যদি আপনি তার ফিটনেস চিন্তা করেন অনেক কিছুতেই হয়তো তরুণ খেলোয়াড়দের থেকে পিছিয়ে আছে। কিন্তু সাকিব জীবনে যে পরিমাণে ক্রিকেট খেলেছে আমার মনে হয় ফিটনেসের থেকে তার যে গেমসেন্স ও গেম অ্যাওয়ারনেস আছে অনেকের থেকে হাজারগুণ ভালো। তার অভিজ্ঞতা ও মেধা এটাই অনেক বড় প্রভাব ফেলবে।’’
কবে নাগাদ সাকিব বাংলাদেশে ফিরতে পারেন এমন প্রশ্নের জবাবে ইমরুল বলেছেন, ‘‘এখন বাংলাদেশে সামনে নির্বাচন। আমার মনে হয় না নির্বাচনের আগে সাকিব বাংলাদেশে আসবে।’’
ক্রিকেটের পাশাপাশি রাজনীতিতে নাম লিখানো সাকিব ২০২৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের ফলে ৬ মাসও রাজনীতি করতে পারেননি তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাকিবের নামে একাধিক মামলা হয়েছে, যার মধ্যে হত্যা মামলাও আছে। এছাড়া দুদকেও আছে তার মামলা। এসব কারণেও সাকিবের দেশে ফেরাটা কঠিন। চাইলেই দেশে ফিরে দেশের মাটিতে খেলতে পারবেন না।