ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। তিনি বলেছেন, জেলেনস্কি সীমা ছাড়িয়ে গেছেন।
ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের বিরোধিতা কিংবা দেশটিকে আর্থিক সহায়তা না প্রদানের সিদ্ধান্ত থেকে হাঙ্গেরিকে কিয়েভের কোনো হুমকিই পিছু হটাতে পারবে না বলে বলেও জানান হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী অরবান।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি।
গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, অরবান ইউরোপীয় স্বার্থ ‘বিক্রি করে দিচ্ছেন’। রাশিয়ার ওপর ইইউ-এর নিষেধাজ্ঞার ক্রমাগত সমালোচনা এবং মস্কো-কিয়েভ সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানানোয় অরবানের ‘মাথায় একটা চড় মারা উচিত’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পরবর্তীতে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রে সিবিকা মন্তব্য করেন যে, অরবান ‘তার নিজের জনগণের জন্যই এক হুমকি’।
গত সোমবার অরবান হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন বুদাপেস্টে নিযুক্ত ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করার জন্য। তিনি জানান, হাঙ্গেরির জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে- ইউক্রেনীয় রাজনীতিবিদদের এসব মন্তব্য ও কর্মকাণ্ড হাঙ্গেরির আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে হস্তক্ষেপ এবং দেশটির সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলার একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ অরবান সতর্ক করে বলেন, ইউক্রেন সরকার ‘সীমা ছাড়িয়ে গেছে।”
হাঙ্গেরির প্রথানমন্ত্রী বলেন, “তারা বুদাপেস্টে একটি নতুন ও ইউক্রেন-পন্থি সরকার চায়। আমরা কোনো সংঘাত চাইনি, অথচ গত কয়েক দিন ধরে হাঙ্গেরি তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তবুও প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা উগ্রপন্থী সামরিক গোষ্ঠী- কারো হুমকিই আমাদের হাঙ্গেরীয়দের স্বার্থ রক্ষায় অনড় থাকা থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।"
তিনি আরো জোর দিয়ে বলেন, “ইইউ আইন লঙ্ঘন করে আগামী ২ বছরের মধ্যে ইউক্রেনকে ইইউ-তে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেবে না বুদাপেস্ট- এর অর্থ হবে যুদ্ধকেও নিজেদের ভেতরে নিয়ে আসা।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিয়েভকে দ্রুত সদস্যপদ দেওয়া মূলত যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ৮০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন ও ‘সমৃদ্ধি’ পরিকল্পনার অংশ। চলতি মাসের শুরুর দিকে ইউরোপীয় কমিশন ব্যক্তিগতভাবে ইইউ সদস্য দেশগুলোর কাছে এটি পাঠিয়েছিল, যা ইতিমধ্যে অনেক সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ইউক্রেনকে আর্থিক সহায়তা না দেওয়ার বিষয়ে অরবান বলেন, “আমরা ইউক্রেনে টাকা পাঠাব না- এই টাকা ইউক্রেনীয় অলিগার্কদের (প্রভাবশালী ধনী) বাথরুমে যাওয়ার চেয়ে হাঙ্গেরীয় পরিবারগুলোর কাছে থাকা অনেক ভালো।” তিনি মূলত জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ সহযোগী তিমুর মিনডিচের কিয়েভের অ্যাপার্টমেন্টে তদন্তকারীদের পাওয়া একটি ‘সোনার টয়লেটে’র প্রতি ইঙ্গিত করে এই মন্তব্য করেন। মিনডিচ গত নভেম্বরে বিশাল এক দুর্নীতি কেলেঙ্কারির মাঝে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ গত অক্টোবরে বলেছিলেন যে, হাঙ্গেরি সম্মানের দাবিদার। কারণ ন্যাটো এবং ইইউ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও দেশটি “সার্বভৌমত্ব এবং নিজস্ব স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ অবস্থানে রয়েছে।”