ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং। কয়েক দিন আগে সিনেমার গানে আর কণ্ঠ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তারপর থেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এই শিল্পী। কেনইবা তা হবে না? হৃদয় ছোঁয়া গান আর সুর উপহার দিয়ে সংগীতপ্রেমীদের মুগ্ধতায় বুঁদ করে রেখেছেন। সুতরাং চলচ্চিত্রের পর্দায় তার গাওয়া গানকে ভীষণ মিস করবেন ভক্ত-অনুরাগীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় মেন আবেগই প্রকাশ করছেন তারা।
জানেন কি অরিজিৎ সিং সিনেমার একটি গান গাওয়ার জন্য কত টাকা পারিশ্রমিক নিতেন? সহজ-সরল জীবনযাপন করা ৩৮ বছরের এই যুবক ব্যক্তিগত জীবনে কত টাকার মালিক? এ প্রতিবেদনে এসব প্রশ্নের উত্তর জানাব—
অরিজিতের উত্থান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ থেকে শুরু হয়েছিল অরিজিতের সংগীতযাত্রা। আজ তার অনুরাগী ছড়িয়ে আছে বিশ্বজুড়ে। মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই তিনি ভারতের অন্যতম আলোচিত ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। ২০০৫ সালে ভারতের একটি জনপ্রিয় রিয়েলিটি শোয়ের মাধ্যমে নজরে আসেন অরিজিৎ সিং। এরপর কম্পোজার শংকর-এহসান-লয় এবং প্রীতমের সহকারী হিসেবে ছয় বছর কাজ করেন।
২০০৭ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘সাওয়ারিয়া’ সিনেমার জন্য ‘ইউ শবনামি’ গানটি রেকর্ড করলেও সেটি সিনেমায় ব্যবহার করা হয়নি। ২০১১ সালে ‘মার্ডার-টু’ সিনেমায় ‘ফির মহব্বত’ গানে প্রথম প্লেব্যাক করেন অরিজিৎ। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ২০১৩ সালে ‘আশিকি টু’ সিনেমার ‘তুম হি হো’ গান গেয়ে তারকাখ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে যান এই শিল্পী।
অরিজিতের কণ্ঠে বহু ভাষার গান ভারতের দশটি ভাষার গান গেয়েছেন অরিজিৎ সিং। এ তালিকায় রয়েছে—হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, তামিল, তেলুগু, পাঞ্জাবি প্রভৃতি। ভার্সেটাইল সংগীত ধারার কারণে বর্তমান প্রজন্মের কাছে সেরা গায়কদের একজন করে তুলেছে তাকে। ২০১২ সালের পর খুব কম চলচ্চিত্র রয়েছে, যেখানে তার গান রাখা হয়নি।
অরিজিৎ সিংয়ের পারিশ্রমিক কত? দ্য ইকোনমিক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সিনেমার গানে কণ্ঠ দেওয়ার জন্য অরিজিৎ সিং গান প্রতি পারিশ্রমিক নেন ৮-১০ লাখ রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০-১৩ লাখ টাকার বেশি)। কিছু কিছু প্রজেক্টে টাকার অঙ্ক আরো বেশি ছিল বলে জানা যায়। তবে লাইভ পারফরম্যান্সের জন্য অরিজিৎ অনেক বেশি পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন।
গত বছর হিন্দুস্তান টাইমস মিউজিককে সাক্ষাৎকার দেন সংগীত পরিচালক মন্টি শর্মা। এ আলাপচারিতায় তিনি জানান, প্রতি শোয়ের জন্য অরিজিৎ সিং প্রায় ২ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় আড়াই কোটি টাকার বেশি) পারিশ্রমিক নেন। অন্য একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দুই ঘণ্টার একটি লাইভ পারফরম্যান্সের জন্য ১৪ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৮ কোটি টাকার বেশি) পারিশ্রমিক নেন অরিজিৎ; যা তাকে শুধু ভারতের নয়, বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পীদের তালিকায় নিয়ে যায়।
অরিজিৎ কত টাকার মালিক? দ্য ইকোনমিক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, অরিজিৎ সিংয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪১৪ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫৪৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা)। মুম্বাইয়ে তার একটি বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য আনুমানিক ৮ কোটি রুপি। তার সংগ্রহে রেঞ্জ রোভার ও মার্সিডিজের মতো বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। তারপরও খুবই সাধারণ জীবনযাপন তার। তাছাড়া একাধিক বড় ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন থেকেও আয় করে থাকেন এই গায়ক।
অরিজিতের সরল জীবনযাপন অঢেল সম্পদ ও খ্যাতি থাকার পর সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং নিজেকে কখনো তারকা মনে করেন না। বাস্তব জীবনে অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করে থাকেন। প্রায়ই তাকে বাস বা ট্রেনে যাতায়াত করতে দেখা যায়। কেবল তাই নয়, কাঁধে ব্যাগ ও খুব সাধারণ চটি পায়ে তাকে চলাফেলা করতে দেখা যায়। তার বাড়ির গ্যারেজে দামি ও বিলাসবহুল গাড়ি থাকলেও প্রায়ই ‘টু হুইলার’ ব্যবহার করেন এই শিল্পী।