ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র যখন মারমুখী, তখন রণংদেহী মেজাজে সতর্ক করলো চীন। জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু চং ইরানের ওপর সামরিক চাপের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে চীনের সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু চং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক দুঃসাহসিকতা বা হঠকারিতার বিষয়ে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নিরাপত্তা পরিষদে কড়া বার্তা দিয়েছেন।
নিরাপত্তা পরিষদের ফিলিস্তিন ইস্যুসহ মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক এক বৈঠকে ফু চং বলেন, “ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। যুদ্ধের কালো ছায়া ঘনীভূত হওয়ার সাথে সাথে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।”
তিনি আরো বলেন, “শক্তির ব্যবহার কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না। যেকোনো ধরনের সামরিক দুঃসাহসিকতা এই অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত অতল গহ্বরের দিকে ঠেলে দেবে।”
ফু চং বলেন, “চীন আশা করে যে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক দেশগুলোর আহ্বানে সাড়া দেবে। তারা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এবং উত্তেজনা বাড়িয়ে ‘আগুনে ঘি ঢালা’ থেকে বিরত থাকবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, ইরান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এর ভবিষ্যৎ ইরানের জনগণকেই স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করতে দেওয়া উচিত। চীন ইরানে স্থিতিশীলতা দেখতে চায় এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার বিষয়টিকে সমর্থন করে।
চীনা দূত আরো বলেন, “আমরা সব পক্ষকে জাতিসংঘ সনদের লক্ষ্য ও নীতি মেনে চলার, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ বা শক্তির হুমকি প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানাই।”
বক্তব্যের শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য এই অঞ্চলের মানুষের। এটি বড় শক্তিগুলোর আধিপত্য বিস্তারের কুস্তি খেলার ময়দান নয়, কিংবা অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার শিকারও হওয়া উচিত নয়।
চীন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে এই অঞ্চলের মানুষের স্বাধীন পছন্দকে সম্মান জানাতে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত বলে তিনি জানান।