টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আসাদুল ইসলাম আজাদের গাড়িবহর থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনীর টহল দল। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিয়মিত মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত সোয়া ১০টার দিকে মধুপুর উপজেলার মির্জাবাড়ী ইউনিয়নের নাগবাড়ী গ্রামে সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় পাঁচটি হকিস্টিক, চারটি চায়নিজ কুড়াল ও লাঠি জব্দ হয়।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাফর ইকবাল এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মধুপুর উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামের মৃত আমির আলীর ছেলে আল বোখারী, একই গ্রামের জুলহাস আলীর ছেলে নাইম ও ইদ্রিস আলীর ছেলে রিপন হোসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুল ইসলাম তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ করে ফিরছিলেন। বহরের চারটি গাড়ির প্রথমটিতে ছিলেন আসাদুল ইসলাম। মির্জাবাড়ী ইউনিয়নের নাগবাড়ী এলাকার চেকপোস্টে গাড়িবহরটি তল্লাশি করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এ সময় বহরের দ্বিতীয় গাড়িতে দেশীয় অস্ত্র পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ওই গাড়িতে থাকা তিনজনকে আটক করা হয়।
তল্লাশির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুল ইসলামের কর্মী-সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে আসতে শুরু করেন। চেকপোস্টে দায়িত্বপ্রাপ্তরাও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে আসেন। ঘণ্টাখানেক পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আটক তিনজনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে থানায় যান।
এ বিষয়ে জানতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। তবে, মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেছেন, “আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে। গুজব ছড়ানো হচ্ছে। শহীদ হাদিরা যেখানে নিরাপদ নয়, সেখানে আমারও জীবনের মায়া আছে। এ জন্য আমিও একা ঘুরি না।”
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাফর ইকবাল বলেন, “নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মধুপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দিন বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করায় সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়নি। এই ঘটনায় নিয়মিত মামলা হয়েছে।”