খেলাধুলা

গোলখরা কাটালেন হলান্ড, গালাতাসারেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ম্যানসিটি

অবশেষে গোলের দেখা পেলেন আর্লিং হলান্ড। আর তাতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল ম্যানচেস্টার সিটি। গালাতাসারেকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। এতদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে লিগ পর্বে অষ্টম স্থানে থেকে সরাসরি নকআউটে ওঠার টিকিট নিশ্চিত করেছে ২০২৩ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

ইতিহাদ স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল সিটি। ম্যাচের তিন মিনিটেই লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন হলান্ড। কিন্তু রায়ান আইত-নুরির ক্রসে ফাঁকায় হেড করে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন নরওয়েজিয়ান তারকা। তবে সাত মিনিট পর আর ভুল করেননি তিনি। জেরেমি ডোকুর দারুণ দৌড় আর থ্রু পাসে ডিফেন্ডার আবদুলকেরিম বারদাকচিকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যান হলান্ড। গোলরক্ষক উগুরচান চাকিরকে বোকা বানিয়ে ঠান্ডা মাথায় চিপ করে জাল খুঁজে নেন। ১০ ম্যাচ পর ওপেন প্লে থেকে এটি তার প্রথম গোল।

গোলের পর আরও চেপে ধরে সিটি। নিকো ও’রাইলির দূরপাল্লার শট কোনোমতে কর্নারে ঠেকান চাকির। ২৯ মিনিটে আসে দ্বিতীয় গোল। ডোকুর দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে বক্সে ঢুকে বল কাটব্যাক করলে এক টাচ নিয়ে নিখুঁত ফিনিশ করেন রায়ান চেরকি।

তবে আনন্দের মাঝেই দুঃসংবাদ। ডোকু চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে বিতর্কিত চ্যালেঞ্জের শিকার হওয়া বেলজিয়ান উইঙ্গার এবারও ইনজুরিতে পড়লেন, যা সিটির ক্রমবর্ধমান ইনজুরি তালিকায় নতুন সংযোজন।

গালাতাসারে প্রথমার্ধে খুব বেশি কিছু করতে পারেনি। ভিক্টর ওসিমহেনের একটি দুর্বল শট ছাড়া উল্লেখযোগ্য সুযোগ ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধে তারা গতি বাড়ায়, যদিও এক পর্যায়ে কুর্দি বিক্ষোভকারীদের কারণে খেলা কিছুক্ষণ থেমে যায়। ওসিমহেনই ছিলেন তাদের প্রধান হুমকি-  হেডে জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে পরীক্ষা করেন। পরে আবারও শট ঠেকান ইতালিয়ান গোলকিপার।

শেষদিকে মাথা ঘষাঘষিতে তিজানি রেইনডার্স ও দাভিনসন সানচেজ চোট পেলেও খেলা চালিয়ে যান। দীর্ঘ বিরতির পর ম্যাচের গতি কমে আসে। শেষ পর্যন্ত সিটি নিয়ন্ত্রণে রেখেই জয় নিশ্চিত করে।

অন্য ম্যাচগুলোর ফল সিটির পক্ষে যাওয়ায় শেষ বাঁশির পর অপেক্ষা ছিল। রিয়াল মাদ্রিদ বেনফিকার কাছে হারায় নিশ্চিত হয়। তাতে প্লে-অফ ছাড়াই শেষ ষোলোতে উঠছে সিটি। চার প্রতিযোগিতায় লড়াই চালিয়ে যাওয়া গার্দিওলার দলের জন্য বাড়তি দুই ম্যাচ এড়ানোটা নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তি।