ক্যাম্পাস

হাবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি কাণ্ডে আটক ২

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়ার সময় দুইজনকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ‘ডি’ ইউনিটের সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিস অনুষদ ও বিভাগ পরিবর্তনের পরীক্ষা চলাকালে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বাসিন্দা কাওছার আলী বিদ্যুৎ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা রাজু আহমেদ।

কাওছার আলী বিদ্যুৎ জয়পুরহাটের হারাইল হাউজ স্টেট এলাকার আবুল হাসনাতের ছেলে হুজাইফা সাবিতের হয়ে প্রক্সি দিতে আসেন। এর বিনিময়ে হুজাইফা সাবিতের মামা আবুজার গিফারীর সঙ্গে তার একটি মোটরসাইকেল কেনার চুক্তি হয়। অপরদিকে রাজু আহমেদ টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার এস.এম. এনামুর রহমানের ছেলে আকীব রাহা তিতুমীরের হয়ে অর্থের বিনিময়ে প্রক্সি দিতে আসেন।

দিনাজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নুর নবী জানান, ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দুইজন প্রক্সি দিতে এসে ধরা পড়েন। তাদের থানায় আটক রাখা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. শামসুজ্জোহা বলেন, “ডি ইউনিটের পরীক্ষা চলাকালীন অবস্থায় দুইজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”

এদিকে, ‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শেষ হলো হাবিপ্রবির ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক পর্যায়ের তিন দিনব্যাপী ভর্তি পরীক্ষা। শেষ দিনে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চারটি শিফটে ‘সি’ (বিজনেস স্টাডিজ) ও ‘ডি’ (সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিস) ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

পরীক্ষা চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার, ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান, প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. শামসুজ্জোহা, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. এস. এম. এমদাদুল হাসান এবং জনসংযোগ ও প্রকাশনা শাখার পরিচালক মো. খাদেমুল ইসলাম।

‘সি’ ও ‘ডি’ ইউনিটে ৫২০টি আসনের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ছিল ৩৬ হাজার ২৮৮ জন। এ বছর মোট ১ হাজার ৭৯৫টি আসনের বিপরীতে ৯৪ হাজার ২৭৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করেন।