লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সাইম আইয়ুবের দারুণ পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়াকে ২২ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল পাকিস্তান।
বৃহস্পতিবার টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তান তোলে ৮ উইকেটে ১৬৮ রান। স্পিন সহায়ক উইকেটে এই স্কোরটাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়। শুরুটা করেন সাইম। আগ্রাসী ভঙ্গিতে ২২ বলে ৪০ রানের ঝোড়ো ইনিংসে তিনটি চার ও দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে পাওয়ার প্লেতেই চাপ তৈরি করেন তিনি। ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানের দ্রুত বিদায়ের পর অধিনায়ক সালমান আগার সঙ্গে কার্যকর জুটি গড়েন সাইম। সালমান ২৭ বলে ৩৯ রান করে ইনিংসকে গতি ও স্থিরতা দেন।
মাঝের ওভারে সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম ২০ বলে ২৪ রান করে ইনিংসের ছন্দ ধরে রাখেন। তবে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ফেরে লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার জাদুতে। তিনি ৪ ওভারে ২৪ রানে ৪ উইকেট নেন। সাইম, সালমান আগা, বাবর আজম ও উসমান খানকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের গতি কিছুটা থামান।
শেষদিকে মোহাম্মদ নওয়াজের অপরাজিত ১৫ রানের ঠান্ডা মাথার ক্যামিও এবং কয়েকটি প্রয়োজনীয় রান পাকিস্তানকে ১৬৫ এর গণ্ডি পেরোতে সাহায্য করে। পিচ ও বোলিং শক্তি বিবেচনায় ১৬৮ রানকে ডিফেন্ড করার মতোই বলে মনে হচ্ছিল, আর সেটাই প্রমাণিত হয়।
১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরুতেই হোঁচট খায়। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ট্রাভিস হেড ১৩ বলে ২৩ রানের ঝলক দেখালেও তার আউটেই ছন্দ হারায় সফরকারীরা। ওপেনার ম্যাথিউ শর্ট দ্রুত ফিরেন, আর অভিষিক্ত ম্যাথিউ রেনশো সম্ভাবনাময় শুরু করেও রানআউটে কাটা পড়েন।
মাঝে ক্যামেরন গ্রিন ও জশ ফিলিপে ইনিংস গুছানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় রান রেট বাড়তেই থাকে। এখানেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন পাকিস্তানের স্পিনাররা। আব্রার আহমেদ ছিলেন অনবদ্য। চার ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। তার বৈচিত্র্য অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডারকে ভেঙে দেয়। বল হাতে সাইম আইয়ুবও অবদান রাখেন। তিন ওভারে নেন ২ উইকেট। শাদাব খান ও নওয়াজ প্রয়োজনীয় চাপ বাড়ান।
শেষদিকে জেভিয়ার বার্টলেট ২৫ বলে অপরাজিত ৩৪ রানে লড়াইয়ের চেষ্টা চালান, তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় স্কোর ১৪০ পেরোলেও লক্ষ্য ছোঁয়া সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত ওভারে অস্ট্রেলিয়া থামে ৮ উইকেটে ১৪৬ রানে। আর পাকিস্তান তুলে নেয় আত্মবিশ্বাসী জয়।