জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন, “মাত্র ৩৫ দিন আগে লন্ডন থেকে দেশে একজন ‘নব্য মুফতি’ এসেছেন। তিনি এখন সারাদেশ ঘুরে ঘুরে ফতোয়া দিচ্ছেন।”
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলাম আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ প্রধান বলেন, “মাত্র ৩৫ দিন আগে লন্ডন থেকে ফিরে ১৭ বছর পালিয়ে থাকা একজন এখন বলছেন, তিনি প্লেনে করে পালাবেন না, দেশেই থাকবেন। অথচ এই ১৭ বছর তিনি ভিডিও কল, স্কাইপ ও জুমে মিটিং করেছেন। তখন বাংলাদেশের কোন লন্ডনে ছিলেন, সেটার জবাব আগে দিতে হবে। মিথ্যা অহংকার করবেন না।”
তিনি বলেন, “এখনো সময় আছে নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য চাঁদাবাজি ও রাহাজানি পরিহার করার।” প্রয়োজনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির সমালোচনা করে রাশেদ প্রধান বলেন, “ফেনীর কৃতিসন্তান বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের বিএনপি এখন আর নেই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের বিএনপিও নেই। এখন যে বিএনপিকে দেখা যায়, তা এক নব্য স্বৈরাচারী, চাঁদাবাজ ও জালেমদের দলে পরিণত হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, “বিএনপি বর্তমানে জনগণ ও রাজনৈতিক মিত্রদের থেকে বিচ্ছিন্ন। আজ বিএনপির সঙ্গে জনগণ নেই, তাদের পুরোনো জোটসঙ্গীরাও নেই। বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার মতো কোনো বড় দল আমি দেখি না।”
১১ দলীয় জোটের প্রসঙ্গ তুলে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র বলেন, “যারা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চায়, তারা সবাই একত্রিত হয়েছে। একাত্তরের চেতনায় বিশ্বাসী কর্নেল অলির দল, চব্বিশের চেতনা ধারণকারী এনসিপি, ইসলামী চেতনার পাঁচটি দল এবং ফেনীর সন্তান মজিবুর রহমান মঞ্জুর মতো দেশপ্রেমিক নেতারা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের সঙ্গে আছেন।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি বলেন, “এই নির্বাচন হবে বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের লড়াই। সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ফেনীর তিনটি আসন আগামীর প্রধানমন্ত্রী ডা. শফিকুর রহমানকে উপহার দিতে হবে।” একই সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ফেনীর সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নান। সঞ্চালনা করছেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবদুর রহিম।