সারা বাংলা

সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “অতীতের বস্তা পঁচা রাজনীতিতে যারা ফ্যাসিবাদ ও একনায়কতন্ত্র উপহার দিয়েছে, দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছে ওই রাজনীতিকে আমরা লাল কার্ড দেখাতে চাই। আমাদের কাছে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই সমান। আসমানের নিচে জমিনের ওপরে বাংলাদেশে যারা বসবাস করবে আমরা তাদের সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। কেউ আমাদের বাধা দিয়ে আটকাতে পারবে না।”

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “একটি মহল প্রচার করছে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হবে, কিন্তু বর্তমানে ইসলামী শিক্ষা ধরে রেখেছে তারাই। কওমি মাদ্রাসা আমাদের কলিজা। যারা ভয় দেখায়, তারা মতলববাজ। ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার জন্যই আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। এবার আর পেছনে নয়, সামনে এগোবো ইনশাআল্লাহ। আপনারা এ ম্যারাথনে সঙ্গী হবেন। জামায়াতের ইসলামীর বিজয় চাই না, এবার ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।” 

যুবকদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেওয়া হবে উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, “যুবসমাজ আমার বন্ধু। বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তোমাদের অপমান করতে চাই না। তোমাদের প্রত্যেকটি হাত দেশ গড়ার হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তোমাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দিতে চাই। সেদিন প্রত্যেক যুবক-যুবতী নিজের দিকে ইশারা করে বলবে- আমিই বাংলাদেশ, দেশ আমার, এই দেশকে আমি উজাড় করে দিয়েই যাব।”

তিনি বলেন, “অনেকে বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে মা-বোনদের ঘরের বাইরে বের হতে দেবে না। আমাদের মা-বোন আছে না? তারা সব করছে না?, তারা যদি উচ্চ শিক্ষা নিয়ে, ঘরের বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারে, যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে তাহলে দেশের প্রত্যেক মা-বোনদেরও আমরা সেভাবে গড়ে তুলব। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। যারা এ কথাগুলো ছড়ায়, তারা বুঝে গিয়েছে মায়েরা কোন দিকে তাকিয়ে আছে। মায়েদের দৃষ্টি এখন মুক্ত, নতুন ও পরিবর্তনের বাংলাদেশের দিকে। মায়েদের দোয়া ও আস্থা আমাদের শক্তি।” 

গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যারা দেশকে ভালোবাসেন প্রথম ভোট হ্যাঁ-তে দেবেন। হ্যাঁ ভোটের মূল্যায়ন না হলে বাকি ভোটের মূল্যায়ন হবে না। হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি। এ বাংলাদেশে রাজার ছেলে রাজা হবে, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবেন-এ সংস্কৃতি আমরা পাল্টে দিতে চাই। আপন যোগ্যতায় সে তার জায়গায় নির্বাচিত হবেন।  একজন সাধারণ রিকশাচালকের সন্তান মেধা বিকাশের মাধ্যমে তার যোগ্যতায় একদিন যেন প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন তেমন বাংলাদেশ গড়তে চাই।” 

আবরার ফাহাদকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদ এই ফেনী নদী নিয়ে দুটো কথা বলায় তাকে জীবন দিতে হয়েছে। আবরার ফাহাদের রুহ ফেনীবাসীর কাছে রেখে গেলাম। যতদিন ফেনী দুনিয়ার বুকে থাকবে, ততদিন তাকে আপনাদের বুকে জায়গা দিয়ে রাখবেন। সে আপনাদের কথা, দেশের ন্যায্যতার কথা বলায় আধিপত্যবাদের দোসর ও দালালরা তাকে সহ্য করতে পারেনি।” 

ফেনীর লালপুলে ওভারপাস ও মেডিকেল কলেজের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন জামায়াতের আমির। তিনি নেতা বলেন, “আমরা ঘোষণা দিয়েছি দেশের কোনো জেলা মেডিকেল কলেজ থেকে বাদ যাবে না। সবগুলো হবে সরকারি মেডিকেল কলেজ। ৩৩টি জেলায় বর্তমানে মেডিকেল কলেজ আছে, বাকি ৩১টি জেলাতেও হবে। আল্লাহ যদি সুযোগ দেন ফেনী তার পাওনা পেয়ে গর্বিত হবে, বঞ্চিত হবে না। ফেনীতে মানসম্মত একটি স্টেডিয়াম নেই। এই স্টেডিয়ামকে আধুনিক করে বিশ্বমানের করা হবে। এখানকার বিপুল মানুষ প্রবাসে থাকেন। এ দেশের অর্থনীতেতে তাদের বিশেষ অবদান রয়েছে। সব সমস্যাগুলো ন্যায্যতার ভিত্তিতেই সমাধান করা হবে।” 

ফেনীর তিনটি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “তারা কোনো দলের নয়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাদের উপহার দেওয়া হয়েছে। যাদের যে প্রতীক দেওয়া হয়েছে সেটিই ১১ দলের। ১১ দলের কর্মীদের চাওয়া-পাওয়া বা মান-অভিমান থাকলে আজ আমি দুহাত তুলে তা নিয়ে যেতে চাই। মিলেমিশে লড়াই করে আধিপত্যবাদ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য ও মা-বোনদের গায়ে হাত তোলার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ভোটগুলো তুলে আনতে হবে। যুব সমাজের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে হবে। এ বাংলাদেশ গড়তে যারা অঙ্গীকারবদ্ধ তাদের হাতেই আমরা ৩০০ আসনে প্রতীক তুলে দিয়েছি। এ প্রতীক স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতীক।” 

বক্তব্যে জামায়াতের আমির সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ফেনীর সন্তান বেগম খালেদা জিয়া আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এসময় তিনি জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শহীদদের পরিবারের সদস্যরা তাকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হন।