জাতীয়

ইফতার সামগ্রীতে স্বস্তির আশা, অস্বস্তি মাছ-মাংস-সবজিতে

এবারে রমজান মাসকে সামনে রেখে সরকারের আগাম প্রস্তুতি ও ইফতার সামগ্রীর পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করছে বিক্রেতারা। তাদের আশা বিগত রমজানের তুলনায় এবার ছোলা, খেজুর, মসুর ডালের মজুত স্বাভাবিক থাকার পাশাপাশি বাড়তি আমদানির জন্য দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই থাকবে। অন্যদিকে বাজারে মাছ-মাংস-সবজির বাড়তি হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ ও রায়ের বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ সপ্তাহে মানভেদে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১১০ টাকা, মসুর ডাল বড় দানা প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা, মাঝারি দানা প্রতি কেজি ১১৫ থেকে ১৪০ টাকা এবং ছোট দানা (দেশি) প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। এখন বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা এবং কম্পানিভেদে প্যাকেটজাত চিনি ১২৫ থেকে ১৩৫ টাকায়।

রমজান মাস সামনে রেখে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এখন বাজারে টিসিবি প্রতি কেজি চিনি বিক্রি করছে ৭০ টাকা, মসুর ডাল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা এবং রমজান উপলক্ষ্যে টিসিবির প্রতি কেজি ছোলা ৫৫-৭০ টাকা এবং খেজুরের দাম মানভেদে প্রতি কেজি ১৫০-৩০০ টাকায়।

আমদানি বেড়েছে ছোলা ও খেজুরের গত বছরের তুলনায় এ বছর আমদানি বেড়েছে ছোলা ও খেজুরের। প্রতি বছর সরকার রমজান মাসকে সামনে রেখে ইফতার সামগ্রীর আমদানিতে শুল্ক ছাড় দিয়ে থাকে। এবারের শুল্ক ছাড়ের সুযোগে ব্যবসায়ীরা গত বছরের তুলনায় বেশি আমদানি করেছে। তাই তাদের প্রত্যাশা এই রমজানে ইফতার সামগ্রীর দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই থাকবে।   জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য মতে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আমদানিকৃত ছোলা খালাস হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৬৭ টন। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৬৯ টন। 

এই হিসেবে গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছরের একই সময়ে ৭০ হাজার ৩৯৮ টন ছোলা বেশি আমদানি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ফ্রেশ খেজুর আমদানি হয়েছে ৩৭ হাজার ৯৩১ টন। গত অর্থবছরে একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ২১ হাজার ৯৮৫ টন। এই হিসেবে গত বছরের তুলনায় এবার ১৫ হাজার ৯৪৫ টন বেশি আমদানি হয়েছে।

রাজধানীর নিউমার্কেটের খেজুর বিক্রেতা গফুর বেপারি বলেন, “গত বছরের তুলনায় এ বছর খেজুরের দাম কমেছে। এখন ১০ কেজির জাহেদি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮৫০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায়, যা গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা। সৌদিয়া মাশরুক ৫ কেজির দাম মানভেদে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা যা গত বছর একই সময় ছিল ২ হাজার ২০০ টাকা। এখন বস্তাভর্তি ভেজা খেজুর মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫-১৪২ টাকায়, যা গত বছর একই সময় ছিল প্রতি কেজি ১৫৫-১৬০ টাকায়।”

অস্বস্তি মাছ-মাংস-সবজিতে এ সপ্তাহে বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থাকে ৮০ টাকা, সিম ৬০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, দেশি শশা ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, গাজর (দেশি) ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, বরবটি ১৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শালগম ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস ৪০ থেকে ৫০টাকা এবং প্রতিটি পিস জালি কুমড়া ও লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে বাজারে বেড়েছে মাছ মুরগির দাম। বাজারে এখন মাঝারি আকারের চাষের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে। যা গত সপ্তাহে ছিল ২৮০ থেকে ৩২০টাকায়। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ৩০০ থেকে ৩২০, দেশি শিং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাঝারি সাইজের পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ও ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১২০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহে বাড়তি রয়েছে মুরগি গরু ও খাসির মাংসের দাম। এ সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা কেজি দরে। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে। সোনালি জাতের মুরগির বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২৫০ থেকে ১৩০০ টাকায়। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়।

যা বলছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা রাজধানীর নিউমার্কেটের রমজানের জন্য আগাম ইফতার সামগ্রীর ক্রয় করতে আসা গৃহিণী সাজেদা আক্তার বলেন, “রমজান প্রায় চলে আসছে। তাই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কিছু ইফতার সামগ্রী নিয়ে রাখছি। আমি আজকে কিছু খেজুর ছোলা নিয়েছি। দাম স্বাভাবিক মনে হলো। তবে এখনো কিছু দিন বাকি আছে, আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা কখন কি করে বলা যায় না।”

সালেক গার্ডেন কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী আবুল বেপারি বলেন, “এ সপ্তাহে সবজির দাম বাড়তি। আমরা অনেক সবজি আনতে পারিনি। সামনে রমজান মাস আসছে দাম আরো বাড়ার সম্ভাবনা আছে।”