জাতীয়

জাতীয় কবিতা উৎসব শুরু ১ ফেব্রুয়ারি

‘সংস্কৃতি-বিরোধী আস্ফালন রুখে দিবে কবিতা’—এই স্লোগানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শুরু হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী ৩৮তম জাতীয় কবিতা উৎসব-২০২৬। আগামী ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে এই উৎসব।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উৎসব উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এর দোতলায় একটি উৎসব দপ্তর স্থাপন করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি কবিদের অংশগ্রহণের লক্ষ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে এবং উৎসবের দিন পর্যন্ত নিবন্ধন চালু থাকবে।

আগ্রহীরা অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারবেন— https://npcbd.com/utsob26 অথবা https://jatiyokobitaparishad.com/utsob26

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান বলেন,“গত ১৭ মাসে জুলাই অভ্যুত্থানের আড়ালে একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি ও পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সারা দেশে তারা মব সন্ত্রাস সৃষ্টি করে ভয় ও আতঙ্কের সংস্কৃতি চালু করেছে। সাংস্কৃতিক সংগঠন, গণমাধ্যম কার্যালয়, লেখক, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের ওপর হামলার মাধ্যমে দেশকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।”

তিনি বলেন, “এই ক্লান্তিকর সময়ে জাতীয় কবিতা উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করতে চাই—লক্ষ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ কখনোই এই পরাজিত দানবদের হাতে তুলে দেওয়া হবে না।”

মোহন রায়হান বলেন, “জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার রূপকার কবিরা আবারও রুখে দাঁড়াবেন। চার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী অসাম্প্রদায়িক মানবিক সংস্কৃতি—বৈষ্ণব, বাউল, পীর-ফকির, দরবেশ, বৌদ্ধ ও আদিবাসী সংস্কৃতি—ধর্ম-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে সব মানুষের সংস্কৃতি রক্ষার ডাক দেবে। এই ডাক উচ্চারিত হবে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের স্মারক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পবিত্র প্রাঙ্গণ থেকে।”

তিনি জানান, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন সম্ভব না হওয়ায় বাধ্য হয়েই এ বছর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উৎসব আয়োজন করা হচ্ছে। ভাষা শহীদদের রক্তে রঞ্জিত এই প্রাঙ্গণেই কবিতার প্রতিবাদ, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা আরো উচ্চকিত হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বছর জাতীয় কবিতা উৎসবে ফিলিস্তিন, ইরাক ও জাপানের কবিরা অংশ নিতে পারেন।

দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধন করবেন জুলাইযোদ্ধা শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর পিতা মীর মোস্তাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন লেখক-গবেষক সলিমুল্লাহ খান।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রেজাউদ্দিন স্টালিনসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।