বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হলে এর পরপরই উত্তরাঞ্চলের বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজে হাত দেবে বিএনপি সরকার।” উত্তরাঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৯টার দিকে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।
দীর্ঘ ২০ বছর পর নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তরবঙ্গ সফরে এসে তারেক রহমান বলেন, “স্বৈরাচারী সরকার যখন দেশের মানুষের ঘাড়ে চেপে বসেছিল, আজ থেকে আড়াই বছর আগে বিএনপি ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবনা দিয়েছিল। অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও কমিশন গঠন করে সংস্কার প্রস্তাবনার আহ্বান করেছে। বিএনপি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ওই প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে এবং কমিশনে দলের পক্ষ থেকে সংস্কার প্রস্তাবনা দিয়েছে।”
তিনি বলেন, “শহীদ আবু সাঈদসহ সব শহীদের আত্মত্যাগ ও জুলাই সনদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের সাথে গণভোটেও ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট দিতে হবে।” এজন্য ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ চিহ্নে টিক দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তন ইট-পাথরের দেয়ালের নয়, বরং অর্থনৈতিক মুক্তি, নিরাপত্তা, নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং ব্যবস্থার পরিবর্তন।” এই নিরাপদ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপির পক্ষে জনসমর্থন কামনা করেন তিনি। তার দাবি, অতীত ইতিহাসের আলোকে ভবিষ্যতেও একমাত্র বিএনপিই এই নিরাপদ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “শহীদ আবু সাঈদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা দিতে হলে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে, টুটি চেপে ধরতে হবে সকল প্রকার দুর্নীতির। বিগত ১৬ বছর ধরে মেগা প্রকল্পের নামে দেশে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। এই দুর্নীতির অবসান ঘটাতে হবে। আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডের বিচার যেমন হতে হবে, তেমনই দুর্নীতিবাজদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে।”
জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “একটি দল কয়েকদিন ধরে লাগাতার মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। অথচ, বিএনপি সরকারের সময় তাদের দুজন মন্ত্রী সরকারের অংশ ছিল। তারা এখন দাবি করে ওই দুজন ভালো ছিলেন, বাকিরা খারাপ। ভালো মানুষ তো খারাপের সঙ্গে থাকে না। যদি বিএনপি খারাপ হতো, তাহলে তারা পাঁচ বছর সরকারের সঙ্গে কেন ছিল? এতে প্রমাণ হয়, বিএনপি একটি ভালো দল। এখন মিথ্যাচার করে কোনো লাভ হবে না। এমন বক্তব্য প্রমাণ করে— হয়, ওই দলের নেতৃত্ব বিভ্রান্ত, নয়তো তারা নিজেরাই নিজেদের সম্পর্কে ভুল তথ্য দিচ্ছে। এসব কথায় কান না দিয়ে বিএনপি শক্তি হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের কাছেই ফিরে যেতে চায়। দেশের মানুষের কাছেই বিএনপির প্রথম ও শেষ সিদ্ধান্ত।”
শহীদ আবু সাঈদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বিএনপির পক্ষে জাতীয় নির্বাচনে ভোট প্রার্থনা করেন তারেক রহমান। তিনি জানান, বিজয়ী হলে ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু করবে বিএনপি।
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
রংপুর বিভাগের ৩৩টি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরা জনসভায় উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান তাদেরকে লাখো মানুষের সামনে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বিজয়ের লক্ষ্যে জনসমর্থন কামনা করেন।
এর আগে সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় তারেক রহমান বগুড়া থেকে সড়কপথে এসে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। সে সময় তিনি শহীদ আবু সাঈদের বৃদ্ধ বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের খোঁজ-খবর নেন। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে কথা শুনেন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, মা মনোয়ারা বেগমসহ আবু সাঈদের সহোদরদের সাথে। আশ্বাস দেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে আবু সাঈদ হত্যাসহ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত কার্যকর করার।
কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠের জনসভা শেষে সড়কপথে পুনরায় বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।