জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে পচা রাজনীতির বন্দোবস্ত আর চলতে দিব না। পচা রাজনীতিকে লাল কার্ড দেখাতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা কোনো আধিপত্যবাদ মানব না। এ দেশে সবাই সমান অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই। বিগত দিনে সংবিধানের দোহাই দিয়ে ১৮ কোটি মানুষের ওপর জুলুম করা হয়েছে। আগের সিন্ডিকেটশন ও চাঁদাবাজি এখনো আছে। আমরা বৈষম্যমুক্ত ও শান্তির বাংলাদেশ গড়তে চাই।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) কুমিল্লার বিশ্বরোড মডেল মসজিদ কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠ প্রাঙ্গণে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, এবার জনগণ দুর্নীতিবিরোধী একটি সমাজ বিনির্মাণে একাট্টা হয়েছে। সারা দেশে গণজোয়ার শুরু হওয়ায় অনেকে দিশেহারা। এখন তারা মায়ের গায়ে হাত দেয়, বেইজ্জত করে। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, আমাদের জীবনের চাইতে আমাদের মায়েদের ইজ্জতের মর্যাদা অনেক বেশি। মায়েদের গায়ে হাত দেবেন, আমরা গালে হাত দিয়ে বসে থাকব না।
জামায়াত আমির বলেন, এ দেশ মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সকলের। আমরা মিলেমিশে ফুলের বাগানের মতো দেশটাকে গড়ব। সকল ধর্মের মানুষ তার প্রাপ্য অধিকার পাবে। এজন্য তার লড়াই করার দরকার হবে না। কারণ সমাজে আমরা সুবিচার কায়েম করব।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কি চান, বাংলাদেশে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসুক? ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর যারা জুলাই মানে না, সংস্কার মানে না, যারা চরিত্র পাল্টায়নি—তাদের দিয়ে কি নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব?
শফিকুর রহমান বলেন, নতুন বাংলাদেশ পাওয়ার জন্য ১৮ কোটি মানুষ মুখিয়ে আছে। যারা জাতির সঙ্গে এখনো ফ্যাসিবাদের আচরণ করছে, তাদের দিয়ে কি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়া যাবে? যাবে না। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস যাদের আছে তাদের বেছে নিতে হবে। এ সাহস জামায়াতে ইসলামীর আছে।
জামায়াত আমির বলেন, দফায় দফায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে জামায়াত নেতাদের সাজানো সাক্ষী ও পাতানো আদালত দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবুও, জামায়াত কারো কাছে মাথা নত করেনি। কারো দয়া ও অনুকম্পা কামনা করেনি। দেশ ছেড়েও পালায়নি। ছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ আছি, ইনশাআল্লাহ থাকব।
রাজনৈতিক নেতাদের দেশের প্রতি ‘আস্থা সংকট’ তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্য দলের নেতারা হাঁচি-কাশি হলেও চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। দেশের প্রতি তাদের আস্থা নেই। অথচ তারাই একসময় এই দেশ শাসন করেছেন।
তাদের উদ্দেশে জামায়াত নেতা প্রশ্ন রাখেন, সেই জায়গাটা গড়েনটি কেন। হাঁচি-কাশির জন্য কেন বিদেশে যেতে হয়। এই দেশের ওপর আস্থা নেই কেন। কারণ, এই দেশ আপনাদের টাকা বানানোর মেশিন।
যুব সমাজের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, যুবকদের বেকারভাতা দিয়ে অসম্মান করতে চাই না। যুবকরা বেকারভাতার জন্য লড়াই করেনি। তারা লড়াই করেছে মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাওয়ার জন্য। যুবকদের হাতকে দেশ গড়ার কারিগর বানানো হবে।
তিনি আরো বলেন, গর্ভবতী মা ও শিশুরা পাঁচ বছর পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাবেন। সচ্ছল কোনো পরিবার না নিতে চাইলে তাদের ধন্যবাদ দেব। অবসরগ্রহণকারী জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার দায়িত্ব দেশ ও রাষ্ট্র নেবে, ইনশাআল্লাহ। তবে, এ ক্ষেত্রে যারা সচ্ছল তারা না নিলে অভিনন্দন পাবেন। যাদের প্রয়োজন তাদের পাওনা নিশ্চিত করা হবে।