রাজনীতি

প্রযুক্তি খাতে যে ৭ বিষয়ে কাজ করবে বিএনপি, জানালেন ওয়াহিদুজ্জামান

দেশব্যাপী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তি খাত নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) তথ্যপ্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্ট ৭টি অঙ্গীকার তুলে ধরেন বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান।

তিনি জানান, সরকার গঠন করতে পারলে বিএনপি দেশের ৯৫ শতাংশ জনগণকে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় আনবে। পাশাপাশি সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে একটি জাতীয় ই-ওয়ালেট চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব বিষয় বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানান তিনি।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিএনপির ৭ অঙ্গীকার— ১. আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবা: আগামী নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিলে কৃষকদের সহায়তায় ‘কৃষক কার্ড’, পরিবারে নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এআই-ভিত্তিক স্বাস্থ্য রেকর্ড চালু করা হবে।

এছাড়া শিক্ষার মান উন্নয়নে এআই-ভিত্তিক কানেক্টেড স্কুল ও লার্নিং সিস্টেম, জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ও স্বাস্থ্যসেবা, অটোমেশনের মাধ্যমে দ্রুত পুলিশি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এআই-চালিত ইমিগ্রেশন সিস্টেম, স্বয়ংক্রিয় ভূমি ও কর ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি-বেসরকারি সেবায় প্রযুক্তিনির্ভর ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর অঙ্গীকার করা হয়। ধানের শীষের অঙ্গীকার দেশ হবে প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত সেবার।

২. সফটওয়্যার, অ্যাপ ও হার্ডওয়্যার শিল্পে আন্তর্জাতিক অবস্থান: দেশের সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও বিপিও শিল্পকে শক্তিশালী করতে Made/Assembled/Serviced in Bangladesh উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছে বিএনপি। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করা হবে। ধানের শীষের অঙ্গীকার—দেশের প্রযুক্তি গড়বে আন্তর্জাতিক বাজার।

৩. দশ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান আইসিটি খাতকে দ্রুত সক্রিয় করতে সাইবার নিরাপত্তা, বিপিও, এআই-ডেটা, সেমিকন্ডাক্টর, ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ সহ পাঁচটি খাতে সরাসরি দুই লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আরো আট লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করতে চায় বিএনপি, এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজন ভোটারদের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত। ধানের শীষের অঙ্গীকার— থাকবেনা কোন দক্ষ বেকার।

৪. পেপালসহ প্রযুক্তিভিত্তিক ক্যাশ-লাইট অর্থনীতি বিএনপি সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তিবিদদের সুবিধার জন্য PayPal সহ একটি জাতীয় E-Wallet চালু করবে, যাতে দৈনন্দিন কেনাকাটা, বিল, ফি, কর—সবই সহজে ডিজিটালভাবে পরিশোধ করা যায়। ধানের শীষের অঙ্গীকার—লেনদেন হবে ডিজিটাল।

৫. সবার জন্য ইন্টারনেট বিএনপি সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে স্কুল-কলেজ, অফিস, গ্রামীণ ডিজিটাল সেন্টার, হাসপাতাল, রেলস্টেশন, এয়ারপোর্টসহ নির্দিষ্ট জনবহুল স্থানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট দেবে। এতে দেশের সবাই সহজে তথ্য নিতে ও আধুনিক সেবা ব্যবহার করতে পারবে। ধানের শীষের অঙ্গীকার— ইন্টারনেট হবে সবার।

৬. আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা নাগরিকদের তথ্য ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামো রক্ষায় জনগণ ও দেশি-বিদেশি স্টেক হোল্ডারদের সাথে নিয়ে  শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা ও আইন করতে চায় বিএনপি। ধানের শীষের অঙ্গীকার—নিরাপদ হবে সাইবার স্পেস, রক্ষা হবে নাগরিক অধিকার।

৭. দেশের প্রথম এআই-চালিত ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস শুধুমাত্র ২০২৩ সালেই বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটগুলোতে ৬ কোটি ৩০ লক্ষবার সাইবার হামলা হয়েছে। এরচেয়েও ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে—ওই একই বছর বাংলাদেশের ৫ কোটিরও বেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে বিক্রি হয়ে গেছে। তাই দেশ ও নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের ডেটা দ্রুত ও নিরাপদে সংরক্ষণ ও বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশে একাধিক আধুনিক টিআর-৪ ও টিআর-৩ ডেটা সেন্টার দরকার। তাই, বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে ‘ক্লাউড-ফার্স্ট’ কৌশলে দেশের প্রথম এআই-চালিত ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস স্থাপন করা হবে। ধানের শীষের অঙ্গীকার-দেশের প্রথম এআই-চালিত ডেটা সেন্টার।