যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান বিষয়ে তার পদক্ষেপ কী হবে সেই পরিকল্পনা তিনি আমেরিকার ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে শেয়ার করবেন না। তবে, ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর সামরিক চাপ বৃদ্ধি করলেও উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, কূটনৈতিক আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের কাছাকাছি বড় ধরনের মার্কিন নৌবহর মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানকে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি করানোর লক্ষ্যেই এই চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি পারস্য উপসাগরীয় মিত্রদের অবহিত করেছেন কি না। জবাবে ট্রাম্প জানান, বিস্তারিত প্রকাশ করলে তা শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের পরিকল্পনা বলতে পারি না। আমি যদি তাদের পরিকল্পনা বলি, তাহলে তা আপনাকে বলার মতোই খারাপ হবে- আসলে তার চেয়েও খারাপ হতে পারে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, “তবে পরিকল্পনা হলো এই যে, ইরান আমাদের সঙ্গে কথা বলছে এবং দেখা যাক আমরা কিছু করতে পারি কি না; অন্যথায় কী ঘটে তা আমাদের দেখতে হবে।”
এদিকে তেহরানও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা এখনো সম্ভব হতে পারে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি জানান, আলোচনার দিকে অগ্রগতি হচ্ছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ক্রেমলিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক পর এ তথ্য জানান লারিজানি।
লারিজানি বলেন, “মিডিয়া যুদ্ধের কৃত্রিম শোরগোলের বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কাঠামোগত ব্যবস্থাগুলো এগিয়ে চলছে।”
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্কতা এবং সংযম- উভয় সুরেই কথা বলেছেন। তিনি জানান, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সংঘাত চাইছে না। তার মতে, যুদ্ধ কোনো পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।
পেজেশকিয়ান বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কখনোই যুদ্ধ চায়নি এবং কোনোভাবেই যুদ্ধ চায় না। ইরান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, যুদ্ধ ইরান, যুক্তরাষ্ট্র বা এই অঞ্চল- কারো স্বার্থেই আসবে না।”
রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছেন, অন্যদিকে অন্যদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি ও অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনের ইস্যুতে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনার কথা বলছেন। ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী ও কিছুটা রহস্যময় অবস্থানের কারণে পশ্চিমা ও আরব মিত্রদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, কারণ তারা সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
ট্রাম্প বারবার বলেছেন, তিনি কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরানের ওপর ভবিষ্যতে কোনো আক্রমণ হলে তা আগের হামলার চেয়ে ‘অনেক বেশি ভয়াবহ’ হবে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রশাসনের সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরানীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা থেকে শুরু করে কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করছেন, যার উদ্দেশ্য হলো ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে পুনরায় উসকে দেওয়া।