পাকিস্তানে সেনা অভিযানে ৯২ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দেশটির সেনাবাহিনী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের চালানো সমন্বিত হামলার জবাবে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে অন্তত ৯২ জন বিছিন্নতাবাদীকে হত্যার দাবি করেছে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
সেনাবাহিনী আরো জানায়, এই সহিংসতায় ১৫ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ১৮ জন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন। পাকিস্তান এ ধরনের হামলার পেছনে ভারতের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ তুললেও দিল্লি বারবার এই দাবি অস্বীকার করে আসছে।
বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি আগেই এই হামলার দায় স্বীকার করেছিল এবং তাদের দাবি ছিল, তারা ডজনখানেক পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে।
প্রদেশটিতে কয়েক দশকের জাতিগত সংঘাতের ইতিহাসে এটি অন্যতম রক্তক্ষয়ী সহিংসতার ঘটনা।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানায়, বিচ্ছিন্নতাবাদীরা গ্রেনেড ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রদেশের ১২টি শহর ও জনপদে হামলা চালায়। সেনাবাহিনী এর জবাবে পুরো প্রদেশজুড়ে ‘ক্লিয়ারেন্স’ অপারেশন শুরু করে এবং বিদ্রোহীদের ‘অশুভ পরিকল্পনা’ নস্যাৎ করে দেয়।
অভিযান চলাকালে কোয়েটার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবন ও আশেপাশের রাস্তাগুলো সিল করে দেওয়া হয়েছিল। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মোবাইল নেটওয়ার্ক জ্যাম করে দেওয়া হয় এবং আঞ্চলিক ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ সেনাবাহিনীল প্রশংসা করে বলেন, “সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।”
ব্রিটিশ ভারত থেকে পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর ১৯৪৮ সাল থেকেই বেলুচদের জন্য স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে এই সশস্ত্র আন্দোলন শুরু হয়। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার বেলুচিস্তানের খনিজ সম্পদ শোষণ করছে, কিন্তু স্থানীয় জনগণ এর কোনো সুফল পাচ্ছে না।
বেলুচ উপজাতির নামানুসারে এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে, যারা এখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসবাস করছে। এই অঞ্চলের বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী হলো বেলুচ এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম হলো পশতুন। পাকিস্তানের মোট আয়তনের প্রায় ৪৪ শতাংশই এই প্রদেশ, তবে এখানে দেশটির ২৪ কোটির বেশি জনসংখ্যার মাত্র ৫ শতাংশ বাস করে। প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ সম্পদে এটি পাকিস্তানের সবচেয়ে সমৃদ্ধ প্রদেশ।